বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার সদর উপজেলার আয়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন দেখা যায় বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি। এ বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। নিম্নাঞ্চল হওয়ায় দুই সপ্তাহ আগে এই বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকেছে।

প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, ‘বন্যার কারণে ১২ তারিখে ক্লাস শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। বিদ্যালয়ের পানির বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’

সদর উপজেলার গালারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট বাসালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। এ দুটি বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি রয়েছে। ছোট বাসালিয়া স্কুলের মাঠে মাছ ধরতে দেখা যায় স্থানীয় লোকজনকে। এলাকাবাসী জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যালয়ের মাঠ চলাচলের উপযোগী হবে না।

ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার বলে, ‘আমাদের বাড়িতেও পানি, স্কুলেও পানি। ক্লাস শুরু হলেও আমাদের স্কুলে যেতে সমস্যা হবে।’

ওই এলাকার হারুন মিয়া নামের এক অভিভাবক জানান, তাঁর বাড়ি থেকে স্কুল পর্যন্ত সব জায়গায় থই থই পানি। নৌকা দিয়ে ছেলেকে স্কুলে পাঠানো ঠিক হবে না। সে সাঁতারও জানে না। স্কুল চালু হলেও বন্যার পানি না যাওয়া পর্যন্ত ছেলেকে স্কুলে পাঠানো সম্ভব হবে না।

রহিমা বেগম নামের অপর অভিভাবক বলেন, ‘আমাদের গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই পানি। বন্যার পানিতে আমরাই হাবুডুবু খাচ্ছি। ক্লাস শুরু হলে তো ছোট ছেলেমেয়েদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, এর দায়ভার কে নেবে?’

গালারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজেরা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে পানি থাকায় ক্লাসে ঢুকতে সমস্যা হবে। এ ছাড়া ময়লা–আবর্জনার দুর্গন্ধ তো আছেই। তারপরও বিদ্যালয়ে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজ চলমান। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যানিটাইজার কেনা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী আহসান বলেন, পানি কমার বিষয়ে প্রতিনিয়ত খবর রাখা হচ্ছে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সবার সহযোগিতায় ১২ তারিখ থেকে শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করা হবে। শ্রেণিকক্ষে পানি থাকলে সে ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম জানান, বন্যায় বিদ্যালয়ে পানি ঢোকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ৯৭টি বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢুকেছে। এর মধ্যে ২৫টির শ্রেণিকক্ষেও পানি ঢুকেছে। অপর দিকে পাঁচটি বিদ্যালয় আশ্রয়ণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন