default-image

সিলেটের বন্দরবাজারে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ (৩৪) নামের এক যুবককে হত্যা মামলায় সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার কাছে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হয়। প্রশিকিউশন শাখা অভিযোগপত্রটি ভার্চ্যুয়াল আদালতে উপস্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ উজ জামান। অভিযোগপত্র দাখিল করে দুপুরে সংবাদ ব্রিফিং করেছে পিবিআই।

আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির ‘টুইআইসি’ (সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত উপপরিদর্শক মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

সিলেট নগরীর আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদ একটি রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে চিকিৎসকের সহযোগী পদে চাকরি করতেন। গত বছরের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান আকবর।

আকবরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠলে ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বরখাস্ত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদ এবং প্রত্যাহার হওয়া এএসআই আশেক এলাহীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের শেষ পর্যায়ে গত ২ জানুয়ারি বরখাস্ত এসআই হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিং হয়। এতে পিবিআই সিলেট বিভাগের পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, জেলার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান, তদন্তকারী কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, অভিযোগপত্রভুক্ত ছয়জনের মধ্যে পাঁচ পুলিশ সদস্যই কারাগারে আছেন আর নোমান পলাতক। এ ঘটনায় তৌহিদ মিয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হলেও সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় তাঁকে অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়নি। অভিযোগপত্রে মামলার সাক্ষী রাখা হয়েছে ৬৯ জনকে। এর মধ্যে ১০ সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সর্বশেষ অভিযুক্ত আসামি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা ও নির্যাতনের আলামত ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন