বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়া বুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলী গ্রামের সাইদুল ইসলামের ৯ মাস বয়সী ছেলে ইয়ামিনের জ্বর, সর্দি ও কাশি হলে তাকে চিকিৎসার জন্য শিশুটির মা ও দাদি গত রোববার বরগুনা শহরের চাইল্ড কেয়ার সেন্টার নামের প্যাথলজি ল্যাবে ‘শিশু চিকিৎসক’ মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ তখন শিশুটিকে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বলেন। পরে চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ সেসব পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখে বলেন, শিশুটির হৃদ্‌যন্ত্রে সমস্যা আছে। চিকিৎসক শিশুটিকে এক দিন পর পর তাঁর চেম্বারে এনে চারটি ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেন। গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই চিকিৎসক নিজ হাতে শিশুটিকে একটি ইনজেকশন দেন এবং বাসায় গিয়ে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করানোর কথা বলেন। ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পরপরই খিঁচুনি দিয়ে শিশুটি মারা যায়।

ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এরপর ওই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পরপরই খিঁচুনি দিয়ে শিশুটি মারা যায়।
default-image

ইয়ামিনের বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যাই। রোববার বিকেলে তিনি আমার ছেলেকে একটি ইনজেকশন দেন এবং বাসায় নিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াতে বলেন। তাঁর কথামতো ছেলেকে ওষুধ খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই তার পেট ফুলে ওঠে। ছেলে নিস্তেজ হয়ে পরে। কিছুক্ষণ পর আমার ছেলে ইয়ামিন খিঁচুনি দিয়ে মারা যায়।’ তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার শিশুসন্তান মাসুম বিল্লাহর অপচিকিৎসায় মারা গেছে।’

বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে ওই চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে সাইনবোর্ডে লেখা—‘নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ অভিজ্ঞ ০–১৬ বৎসর; মোঃ মাসুম বিল্লাহ, এমএ (দর্শন) জাঃবিঃ; কমিউনিটি প্যারামেডিক (ঢাকা); এমসিএইচ (মা ও শিশু) ঢাকা শিশু হাসপাতাল; বিএনএমসি (গভঃ রেজিঃ নং–১৮৫৭)’। ওই সাইনবোর্ডে সেবাসমূহের জায়গায় লেখা—গর্ভকালীন ও প্রসব পরবর্তী সময়ে মায়েদের পরামর্শ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা; অ্যালার্জি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট রোগের পরামর্শ ও চিকিৎসা; নাক, কান ও গলার মধ্যে কোনো কিছু আটকে গেলে তা বের করার ব্যবস্থা প্রভৃতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসক পরিচয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মাসুম বিল্লাহ আসলে কোনো চিকিৎসক নন। তাঁর কোনো চিকিৎসক সনদ নেই। তিনি একসময় কোনো একজন চিকিৎসকের চেম্বারে রোগীর সিরিয়াল দিতেন। সেখান থেকে এখন তিনি চিকিৎসক পরিচয় দিচ্ছেন। আসলে তিনি ভুয়া।’ এ ধরনের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আগে কেন ব্যবস্থা নিলেন না, এ প্রশ্নে সিভিল সার্জন বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন