বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরবাটা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজীব ও সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। আমিনুল নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর অনুসারী আর মোজাম্মেল জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরীর অনুসারী। শনিবার থেকে শুরু হওয়া সরকারের বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে আবার দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপি কার্যালয় থেকে চাল নিয়ে আসা লোকজনের কাছ থেকে চাল নিয়ে মেপে দেখেন মোজাম্মেলের লোকজন। এ নিয়ে আমিনুলের পক্ষের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন ও মোজাম্মেলের পক্ষের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খলিল আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে তা পাল্টাপাল্টি হামলায় গড়ায়। পাল্টাপাল্টি হামলা-সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ একে-অপরের লোকজনকে পিটিয়ে আহত করে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও মারামারি থামাতে কোনো ভূমিকা পালন করেননি। মারামারির ছবি তোলার চেষ্টা করা হলে স্থানীয় দুই সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল ও ইউনুছ শিকদারকে নাজেহাল করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেন মো. সুমন নামের যুবলীগের এক নেতা।

সূত্র জানায়, দফায় দফায় এই হামলা-সংঘর্ষ চলাকালে ইউপি সদস্য খলিলের স্থানীয় তোতারবাজারের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। হামলা-সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১২ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে আটজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন কেফায়েত উল্যাহ, কামাল হোসেন, ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খলিল, ফখরুল ইসলাম, মিয়া হাজি, মধু ব্যাপারী, সিরাজুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিন ওরফে রাজা। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করছেন। গতকাল চাল বিতরণ শুরুর পর মোজাম্মেলের লোকজন পথে সুবিধাভোগীদের আটকে তাঁদের চাল পরিমাপ করার নামে হয়রানি করছিলেন। রোববার কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর (চেয়ারম্যান) লোকজনের ওপর হামলা চালান। অন্য দিকে সাবেক চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই ইউপি সদস্যের মধ্যে গন্ডগোল হয়েছে বলে শুনেছেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। নিজের কোনো অনুসারী এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

হামলা ও সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি পুলিশ নিয়ে দুই পক্ষকে দুই দিকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন