বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী সূত্রে জনা যায়, কোহিনূর বেগমের শাকিবুল সিকদার নামের ১৩ বছরের এক ছেলে আছে। ১০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তিনি লেবাননে চলে যান। সেখানে চার বছর থাকার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি শৈলডুবি গ্রামের ইউনুস সিকদারের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি কেনেন।
এলাকাবাসী সূত্র জানায়, কেনা জমিতে কোহিনূর বেগম একটি টিনের দোচালা ঘর তুলে ছেলে শাকিবুলকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে ১৪ শতাংশ জমি তাঁকে মেপে বুঝিয়ে দেননি ইউনুস। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। আজ বেলা তিনটার দিকে কোহিনূর তাঁর জমির একটি আমগাছ কাটতে গেলে বাধা দেন ইউনুস। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ইউনুস সিকদার (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাহিদ সিকদার (৩২) কোহিনূর বেগমকে বাঁশ দিয়ে পিটাতে শুরু করেন। পিটুনি থেকে বাঁচতে কোহিনূর দৌড়ে প্রতিবেশী একটি বাড়ির রান্নাঘরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ইউনুস ও জাহিদ কোহিনূর বেগমকে টেনেহেঁচড়ে বের করে এনে আবার পেটাতে শুরু করেন। এবার কোহিনূর বেগম বাঁচার জন্য পাশের একটি পুকুরে ঝাপ দেন। ওই সময় ইউনুস ও জাহিদ পুকুর থেকে কোহিনূর বেগমকে তুলে আবার মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই কোহিনূর মারা যান।

কোহিনূরের ছেলে শাকিবুল সিকদার বলেন, ‘আমার মাকে ইউনুস ও জাহিদ পিটাইয়া মাইরা ফেলছে। গ্রামের একটা লোকও আমার মাকে বাঁচাতে আগাইয়া আসে নাই। আমরা টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। আমাগো জমি বুঝায় দেওয়া হয় নাই।’
স্থানীয় কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফারুক হোসেন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার দুই পক্ষ সালিসও করে ছিল।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করে ফেলা হলো, অথচ তাঁকে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে এল না। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, কোহিনূরের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ কাল শনিবার সকালে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

ওসি সুব্রত গোলদার আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে ইউনুস সিকদার, তাঁর ছেলে জাহিদ সিকদারসহ পরিবারের সব সদস্য পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন