default-image

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নে চাঁদার দাবিতে চারটি ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ মার্চ থেকে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই চার পরিবারের সদস্যরা। উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিচ হাওলাদার (৩৫) ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে ওই চার ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনিচের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তবু বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাঁর বাহিনীর আতঙ্কে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না।

সূর্যমণি ইউনিয়নের ইন্দ্রকূল গ্রামের বাসিন্দা হামিদা বেগম (৭০) অভিযোগ করে বলেন, তিনি সম্প্রতি বসবাসের জন্য পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে গত ২৪ মার্চ আনিচ ও তাঁর বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাঁর (হামিদা) কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাঁর বসতঘরে আনিচ তালা লাগিয়ে দেন। সেই থেকে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আনিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না। এ বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপার বরাবর আবেদনও করেছেন।

বিজ্ঞাপন

মাহাবুব আকন (৫০) নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তাঁর কাছে বিভিন্ন সময় আনিচ ও তাঁর ভগ্নিপতি সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চাঁদা দাবি করেন। ২৩ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনিচ বাহিনী তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধর শুরু করেন এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেন। ওই সময় তাঁর ছেলে মো. আসিফ (১৬) প্রতিবাদ করলে তাকে আনিচ বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং রাত সোয়া তিনটা পর্যন্ত তাঁর ছেলেকে আটকে কয়েক দফায় লোহার রড দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে। এ ঘটনায় তিনি ৪ এপ্রিল পটুয়াখালী আদালতে আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মাহাবুব আরও বলেন, তিনি তাঁদের (আনিচ ও তাঁর বাহিনী) হুমকি ও ভয়ে এলাকায় যেতে পারছেন না। অথচ আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে।

এদিকে আনিচ বাহিনীর অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় এক আইনজীবীর ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

তবে আনিচ হাওলাদার বলেন, ‘আমার কোনো বাহিনী নেই। যাঁরা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাঁরা ও তাঁদের স্বজনেরা আমার ঘরে চুরি করেছেন। এখন আমার বিরুদ্ধে তাঁরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’

এ ব্যাপারে সূর্যমণি ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না। একটি মহল আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন