default-image

দুই যুগেও খালটি খনন করা হয়নি। মাটি পড়ে মরা খালে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। খালটির পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পানির অভাবে খালের আশপাশে পাঁচ শতাধিক একর জমিতে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার কৃষকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে খালটি খনন করে পানির প্রবাহের চেষ্টা করছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে এই চিত্র দেখা গেছে পটুয়াখালীর বাউফলে আলেয়া রহমান লেডিস ক্লাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জৌতা-নওমালা-বগা খালে। উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও নওমালা ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে খালটি বয়ে গেছে।

বটকাজল গ্রামের ফারুক সিকদার (৩২) বলেন, খালের পানির ওপর নির্ভর করেই পাঁচ শতাধিক একর জমিতে আমন ও বোরো ধানের চাষাবাদ করেন জৌতা, বটকাজল ও নওমালা এলাকার কয়েক শ কৃষক। বর্তমানে এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। বিডিসি খাল থেকে পশ্চিম দিকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত খনন করা না হলে কৃষকদের কষ্টের শেষ থাকবে না। ধানের আবাদ না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পানির অভাবে ধানখেত শুকিয়ে ফেটে গেছে বলে জানান জৌতা গ্রামের আবদুর রব খলিফা (৫৫)। তিনি বলেন, ধানের চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পানির ব্যবস্থা করতে না পারলে ধানের ফলন হবে না।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা শাহ আলম চৌকিদার (৪২) বলেন, দুই যুগেও খালটি খনন করা হয়নি। মৈশাদি খাল থেকেই এই খালে পানি আসত। কিন্তু মৈশাদি খালে জলকপাট দেওয়া হয়েছে, যা সব সময় বন্ধ থাকে। এ কারণে ধীরে ধীরে এই খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। খালটির অনেক জায়গায় মাটি জমে উঁচু হয়ে গেছে। বিডিসি খাল থেকে পানি আনার জন্য তাঁরা খালটি খনন করছেন।

নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাদা হাওলাদার বলেন, জৌতা, বটকাজল ও নওমালা এলাকার মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিকাজই তাঁদের জীবন-জীবিকা। খালটির পানির প্রবাহ বন্ধ থাকায় তাঁদের দুর্ভোগের শেষ নেই। খালটি খনন করা এখন সময়ের দাবি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, মৈশাদি খালের জলকপাটসহ সব খালের জলকপাট খুলে দিলে মরা খাল আবার প্রাণ ফিরে পাবে। কৃষকেরাও উজ্জীবিত হবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন