বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফেরি উদ্বোধন দেখতে দুই পাড়ে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত প্রমুখ।

এই ফেরি চালুর ফলে সমুদ্রবন্দর মোংলা ও পায়রার সঙ্গে সড়কপথে দূরত্ব কমেছে ৭০ কিলোমিটার। এ ছাড়া বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোর লাখো মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এ ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাগেরহাট সড়ক বিভাগ জানা যায়, বলেশ্বর নদের দুই তীরের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ ও দ্রুততর করতে চলতি বছরের মার্চে রায়েন্দা-বড় মাছুয়া ফেরিঘাট নির্মাণকাজ শুরু হয়। মার্চে শুরু হয়ে অক্টোবরে শেষ হয় রায়েন্দা-পান্তেন রাস্তা নির্মাণের কাজ। ঘাট ও দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

ফেরির উদ্বোধনী যাত্রার চালক আবদুর রউফ বলেন, ‘এই যাত্রার মাধ্যমে আমি ইতিহাসের সাক্ষী হলাম। মাছুয়া থেকে রায়েন্দা ঘাটে ভিড়তে ৪০ মিনিট সময় লেগেছে। অন্য সময় হয়তো ৪০-৫০ মিনিট লাগতে পারে।’

মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের মালতি রায় স্বামীর চাকরির সুবাদে থাকেন বাগেরহাটের শরণখোলায়। ফেরি চালুর পর তিনি বলেন, ‘এখন আর শরণখোলায় থাকতে হবে না। এত কাছে নিজেদের বাড়ি হলেও এত বড় নদী পার হয়ে আসা–যাওয়া কঠিন ছিল। এখানে অনেক তুফান থাকে, এই বড় নদী ট্রলারে পাড়ি দিতে ভয় লাগে। এখন ফেরি হওয়াতে খুব সহজেই যাতায়াত করা যাবে। আর নিয়মিত বাড়ি যেতে পারব।’

অবস্থানগত কারণে বাগেরহাট ও পিরোজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি ফেরির। অবশেষে তাঁদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
আমিরুল আলম, সাংসদ, বাগেরহাট-৪ আসন

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক সম্পর্কসহ নানা কারণে বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার একটি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে ছিল প্রমত্তা বলেশ্বর নদ। ফেরি চালু হওয়ায় এই এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার একটা বড় অংশের সঙ্গে বাগেরহাটের মানুষের যোগাযোগের জন্য বলেশ্বর রায়েন্দা-বড়মাছুয়া খেয়া ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি পায়রা থেকে মোংলা বন্দরের মধ্যে নতুন যোগাযোগ স্থাপন হবে। বলেশ্বর নদীর দুই তীরের মানুষ স্বল্প সময় এবং অল্প ব্যয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। ফেরির সুবিধা থাকাতে দুই পাড়ের মানুষের জন্য যাত্রীবাহীরা পরিবহনও চালু হবে।

বাগেরহাট-৪ আসনের সাংসদ আমিরুল আলম বলেন, ‘অবস্থানগত কারণে বাগেরহাট ও পিরোজপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি ফেরির। অবশেষে তাঁদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ফেরি চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন