‘বাঘের বাচ্চা’ মনে করে চিতা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যা, মামলা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কচুয়া গ্রামে চিতা বিড়ালকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আজ রোববার থানায় মামলা করেছে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। মামলায় ছয় থেকে সাতজনের নাম উল্লেখসহ শতাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কচুয়া গ্রামের কয়েক ব্যক্তি গ্রামের পাশে একটি ঝোপে চিতা বিড়াল দেখতে পান। তাঁরা বন্য প্রাণীটিকে ‘বাঘের বাচ্চা’ মনে করে পিটিয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাঁরা সবাই মিলে চিতা বিড়ালটিকে পিটিয়ে মারেন। শুধু মেরেই ক্ষান্ত হননি, গ্রামের ভেতরে আনন্দ মিছিল ও ফটোসেশন করে উল্লাস করতে থাকেন। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন ঘটনার খবর পেয়ে মৃত চিতা বিড়ালটিকে উদ্ধার করেন।
কচুয়া গ্রামের আবদুল করিম বলেন, গ্রামের সবাই এই প্রাণী হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। কিছু লোক বাঘের বাচ্চা মনে করে প্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরেছেন। চিতা বিড়াল দেখে বন বিভাগের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এলে হয়তো প্রাণীটিকে বাঁচানো যেত।
একই গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, কিছুদিন আগে এই গ্রামে শিয়ালের কামড়ে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ভীত হয়ে ৯ জানুয়ারি একটি শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত এক মাসে এ গ্রামে দুটি বন্য প্রাণী হত্যা করা হয়েছে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে বাঘের শাবক মনে করে মেরে ফেলেছেন, অথচ এটি চিতা বিড়াল। বিরল প্রজাতির প্রাণীটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকায় নির্জন স্থানে চিতা বিড়াল দেখা যায়। এটা মানুষের ওপর হামলা করে না। এটাকে পিটিয়ে হত্যা করা ঠিক হয়নি। যাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে আজ চুনারুঘাট থানায় বন বিভাগ থেকে মামলা হয়েছে।