পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে নিহত কার্বারী লকরুই ম্রোর ছেলে রেংঙি ম্রোর স্ত্রী কাইপয় ম্রো বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় একই পাড়ার ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা সবাই পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাঁরা সবাই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। আজ শনিবার সকালে নিহত পাঁচজনের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গ্যালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর পাড়াবাসী কেউ পালিয়ে যাননি। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পাড়া থেকে পুলিশ ৩১ জনকে আটক করে। তদন্ত করে ২২ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কাসেম প্রথম আলোকে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ২২ আসামিকে আগেই আটক করে আনা হয়েছে। আজ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুমা উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আউপাড়ার পাড়াবাসী বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে অতর্কিতে লকরুই কার্বারীর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পাড়াবাসী প্রথমে লকরুই কার্বারীর বড় ছেলে রুমতুই ম্রোকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে কার্বারীর বাড়িতে গিয়ে লকরুই কার্বারী, ছেলে রেংঙি ম্রো ও মেনওয়াই ম্রোকে হত্যা করা হয়। কার্বারীর কলেজপড়ুয়া সবার ছোট ছেলে রিংরাও ম্রো আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তাঁকে সেখানে গিয়ে হত্যা করা হয়। কার্বারীর আরেক ছেলে মেনলক ম্রো পালিয়ে রক্ষা পেয়েছেন।

গ্যালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, কার্বারীর পরিবারের সঙ্গে পাড়াবাসীর জুমের জমি নিয়ে গত বছর থেকে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে পাড়ায় কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পাড়াবাসীর সন্দেহ, কার্বারীর পরিবারের সদস্যরা গোপনে জাদুমন্ত্র করার কারণে পাড়ার লোকজন রোগাক্রান্ত হচ্ছে। এ ক্ষোভে কার্বারীর পরিবারের সদস্যদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন