বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্যরা চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সাঙ্গু নদের কয়েকটি স্থানে খননের কাজ শুরু হয়। চরতি ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকায় এস এস ড্রেজার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ফসলি জমির ওপর দিয়ে বালু উত্তোলনের পাইপ টানার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এক পক্ষ সাতকানিয়া উপজেলা তাঁতী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাংসদের শ্যালক মো. রুহুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে চরতি ইউনিয়নের উত্তর তুলাতুলি চর এলাকা হয়ে বালু উত্তোলনের পাইপ টানাতে চাচ্ছিলেন। অন্য পক্ষের লোকজন ওই এলাকায় ফসলি জমির ক্ষতি করে বালু উত্তোলনসহ পাইপ টানানোর কাজে বাধা দেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কৃষকসহ ৫০-৬০ জন স্থানীয় বাসিন্দা পাইপ টানানোর কাজে বাধা দেয়। পরে সেখানে সাংসদের শ্যালক রুহুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা ছররা গুলি ছুড়লে ১৩ জন আহত হন।

এস এস ড্রেজার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আমরা কোনো ফসলি জমির ওপর দিয়ে বালু উত্তোলনের পাইপ টানাতে চেষ্টা করিনি। নদের পাশ দিয়ে পাইপ টানানোর কাজ চলছিল। স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ আছে। বালু উত্তোলনের পাইপ টানানোর বিষয়টি নিয়ে অযথা দুই পক্ষই বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা তাঁতী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাংসদ আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর শ্যালক মো. রুহুল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বালু উত্তোলনের কাজ করছিলেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমি তাঁদের সহযোগিতা করেছি মাত্র। কিন্তু এলাকার কিছু লোক সরকারের উন্নয়নকে ব্যাহত করার জন্য নদের খননকাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। পরে তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হলে নিজেরাই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন। কিন্তু দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন আমাদের ওপর।

চরতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোস্তাকিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এলাকার কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ফসলি জমির ওপর দিয়ে পাইপ টানানো ও বালু তুলতে বাধা দেওয়ায় রুহুল্লাহর নেতৃত্বে হামলাসহ গুলি ছোড়া হয়েছে। এতে ছররা গুলির আঘাতে ১৩ জন এলাকাবাসী আহত হয়েছেন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বালু উত্তোলন ও বালু উত্তোলনের পাইপ টানানোর বিষয়কে কেন্দ্র এক পক্ষের ছররা গুলির আঘাতে কয়েকজন আহত হন। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন