বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খানকে বাল্যবিবাহের আয়োজনের কথা জানান। পুলিশের পক্ষ থেকে রাতেই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ সাদিকুর রহমানকে বিষয়টি জানানো হয়। এ খবর পেয়ে মেয়ের ফুফুর বাড়িতে উপপরিদর্শক (এসআই) নিতীশ কুমারসহ সদর থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দলকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালান ইউএনও। নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও ওই রাতে বর রকি আলীকে যেতে হয়েছে কারাগারে।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে বিয়ের আয়োজন কনের বাড়ি থেকে সরিয়ে করা হয়েছিল ফুফুর বাড়িতে। বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজি নিয়ে আসা হয়েছিল মধ্যরাতে। কিন্তু এরপরও শেষরক্ষা হয়নি।

বাল্যবিবাহ করতে আসার অপরাধে পিরোজখালী গ্রামের আইনাল হকের ছেলে মো. রকি আলীকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ইউএনও মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান। সেই সঙ্গে বাল্যবিবাহ পড়াতে আসা নিকাহ নিবন্ধক (কাজি) মো. জাহিদুল ইসলামকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এ সময় মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়ে সাজার হাত থেকে কোনোরকমে রক্ষা পেয়েছেন। ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়েছেন তিনি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পেশকার মো. সোবহান আলী জানান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নে ওই মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়ি। নিজ বাড়িতে বাল্যবিবাহ দিলে ঝামেলা হবে এমন আশঙ্কায় সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামে মেয়েটির ফুফুর বাড়িতে গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে চলে বিয়ের আয়োজন।

সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান প্রথম আলোকে জানান, দণ্ডিত ব্যক্তিদের রাতেই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন