কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
বাসিন্দাদের দুঃখ গোমতী নদী
ওয়ার্ডগুলোর অন্যতম সমস্যা সড়কগুলো খানাখন্দে ভরপুর। নেই পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। মাদকের সমস্যাও আছে।
কুমিল্লা নগরের কাপ্তানবাজার থেকে শুভপুর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পুরাতন গোমতী নদী দখল–দূষণে একাকার। ষাটের দশকে নদীর এপারের মানুষের সঙ্গে ওপারের যোগাযোগের জন্য পাঁচটি আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া হয়। কাপ্তানবাজার, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, থানা রোড, হারুন স্কুল সড়ক ও চকবাজার এলাকায় এসব বাঁধ।
ওই সব বাঁধের আশপাশে নদীর মধ্যে ময়লা, প্লাস্টিক সামগ্রী, কাচের বোতল ফেলে রাখা। গড়ে উঠেছে নানা স্থাপনাও। নদীর দুই কূলে রয়েছেন ৫২২ জন দখলদার। এই নদীর কূলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকার বাসিন্দাদের দুঃখ এই গোমতী নদী।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই নদীর সৌন্দর্যবর্ধন করতে হবে। এই নদীকে কেন্দ্র করে পর্যটনকেন্দ্রও গড়ে তোলার দাবি তাঁদের। তবে ওয়ার্ডগুলোর অন্যতম সমস্যা, সড়ক খানাখন্দে ভরপুর। নেই পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। মাদকের সমস্যাও আছে। তাই তাঁরা তাঁকেই আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দেবেন, যাঁরা সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবেন।
৪ নম্বর ওয়ার্ড
কাপ্তানবাজার ও উত্তর ভাটপাড়ার কিছু এলাকা নিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড। উত্তর কাপ্তানবাজারের ভাটারপুকুরের পানি সড়কে জমা হয়ে থাকে। সেখানে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় পুকুরের পশ্চিমপাড়ে কুরিয়ান স্টোরের সামনে গিয়ে পানি দেখা গেছে। পুকুরের ঘাটলাও পানিতে নিমজ্জিত। জজ কোর্ট মোড় থেকে কাপ্তানবাজার ‘পাক্কার মাথা’ পর্যন্ত সড়কের পূর্ব পাশে পুরাতন গোমতী নদী। নদী শ্যাওলা ও ময়লা–আর্বজনায় ভরা। কয়েকটি অংশও দখল। ময়লার ভাগাড়ে ভোগান্তি চরমে। এখানে ভোটার ৭ হাজার ৭৭৫ জন।
এখানকার ভোটার কবি খায়রুল আহসান বলেন, ‘পুরাতন গোমতী নদী দূষণে একাকার।’ এলাকার ভোটার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সহসভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, ‘কাপ্তানবাজার এলাকায় শব্দদূষণ বেশি। পরিবেশ অধিদপ্তরের লাগোয়া সরকারি মজা পুকুরটি পরিষ্কার করা হচ্ছে না। পুরাতন গোমতী নদীতে সুয়ারেজ লাইন রয়েছে। এতে নদীর পানি নষ্ট হচ্ছে। নদীর সৌন্দর্যবর্ধন করা দরকার।’
ভোটার গণমাধ্যমকর্মী বাহার রায়হান বলেন, ওয়ার্ডের প্রধান সড়কও খানাখন্দে ভরা। সাবেক কাউন্সিলর মোসলেম উদ্দিন বলেন, ভাটারপুকুরপাড়ে জলাবদ্ধতা আছে। বাতির অভাব রয়েছে।
কাউন্সিলর প্রার্থী হচ্ছেন মো. আবদুল জলিল, সাবেক কাউন্সিলর মোসলেম উদ্দিন, কবির হোসেন, নাজিম উদ্দিন ও মো. ফয়েজুল ইসলাম। বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল জলিল বলেন, কিছু সমস্যা রয়েছে, এগুলো থাকবে না।
৫ নম্বর ওয়ার্ড
নগরের মোগলটুলি, পুরাতন চৌধুরীপাড়া, রাজবাড়ী, রাজগঞ্জ ও গাংচরের কিছু এলাকা নিয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ড। ১৬৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শাহ সুজা মসজিদ এই ওয়ার্ডে। এ ওয়ার্ড লাগোয়া পুরাতন গোমতী নদীর কিছু অংশে দখলদার রয়েছে। নদীর মধ্যে ময়লা–আর্বজনা জমে আছে। কচুরিপানায় নদী ভরে আছে। থানা রোড থেকে চানপুরগামী সড়কে শত শত গর্ত। রাজগঞ্জ বাজারেও নোংরা অবস্থা। সড়কে ভ্যানগাড়িতে ব্যবসার কারণে যানজট লেগে থাকে। ভোটার ৮ হাজার ৬৮৭ জন।
এ ওয়ার্ডের ভোটার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লা শাখার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে।
এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ আবির আহমেদ গত বছরের ৩১ আগস্ট মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে গত ২ নভেম্বর নির্বাচন হয়। এতে তাঁর ছেলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ রায়হান আহমেদ জয়ী হন। এবার কাউন্সিলর পদে তিনি একক প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ও এলাকাবাসী মিলে তাঁকে একক প্রার্থী করেছেন।
কাউন্সিলর রায়হান বলেন, ‘দল, এলাকাবাসী ও পাড়ার লোকজন আমাকে এ পদে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ।’
৬ নম্বর ওয়ার্ড
পূর্ব শুভপুর, চানপুর, গর্জনখোলা ও তেরিপট্টি এলাকা নিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডেও পুরাতন গোমতী নদী দখলে আছে। নদীতে কাচের বোতল ফেলে স্তূপ করে রাখা। এখানকার নদীর পানি কালো, দুর্গন্ধযুক্ত।
ওয়ার্ডের বাসিন্দা কুমিল্লা নগরের আওয়ার লেডি অব ফাতিমা গার্লস হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ ওয়ার্ড যেন ময়লার ভাগাড়।
এ এলাকার ভোটার কুমিল্লা জেলা জুয়েলারি মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এখানে রাস্তাঘাট সরু, নদী দখল আছে।
কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদিক মামুন বলেন, রাস্তাঘাট খারাপ। বাতির অভাব আছে। মাদকের বিস্তারও রয়েছে।
এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোশারফ হোসেন। তিনি আদর্শ সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির। এবারও তিনি নির্বাচন করবেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসান ইমাম। এখানে ভোটার ৮ হাজার ৮৬৭ জন।
কাউন্সিলর মোশারফ বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট হলে আবার জয়ী হব।’