default-image

টাকা লুট করার জন্য হবিগঞ্জের বাহুবলে মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেছেন। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি)  মোহাম্মদ উল্ল্যা সংবাদ সন্মেলন এসব কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা লুটে নেওয়ার জন্য মা-মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

আদালতে জবানবন্দি দেওয়া ওই আসামির নাম আমির হোসেন। তাঁর বাড়ি সিলেট জেলার শাহপরান থানার চৌকিদীঘি গ্রামে। তিনি বাহুবল উপজেলার দ্বিগাম্বর বাজারের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাহুবল উপজেলার দ্বিগাম্বর বাজারের কাছে একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে অঞ্জলি দাস (৩০) ও তাঁর মেয়ে পূজা রানী দাসের (৮) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অঞ্জলি ওই এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সন্দ্বীপ দাসের স্ত্রী।

এ ঘটনার এক দিন পর গত শুক্রবার নিহত মা–মেয়ের প্রতিবেশী আমির হোসেনকে (৪৫) আটক করে পুলিশ। একই দিন তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাহুবল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মনির হোসেনকে (৪৭) আটক করা হয়। ওই দিনই অঞ্জলি দাসের স্বামী সন্দ্বীপ দাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্পর্কে জানানোর জন্য অনুষ্ঠিত গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, আমির হোসেন গত শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তাহমিনা বেগমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আমির হোসেন বলেন, ঘটনার আগের দিন তিনি জানতে পারেন তৃতীয় তলার ভাড়াটে সন্দ্বীপ দাস কাঁচামালের ব্যবসার জন্য সুনামগঞ্জ গেছেন। এ সুযোগে ওই ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আমির হোসেন তাঁর বাসায় চুরির কথা বলে সন্দ্বীপের ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে ডাকতে থাকেন। তাঁর ডাকাডাকিতে অঞ্জলি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর দুই সহযোগীসহ ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে অঞ্জলিকে গলা কেটে হত্যা করেন। এ সময় তাঁর মেয়ে পূজা ঘুম থেকে উঠে গেলে তাঁরা তাকেও গলা কেটে হত্যা করেন।

জবানবন্দিতে আমির হোসেন আরও বলেন, মা ও মেয়েকে হত্যার পর তাঁরা ওই ফ্ল্যাট থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে চলে আসেন। সেখান থেকে বের হয়ে আসার পর তাঁরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ডোবায় ফেলে দেন। পরে ঘটনাটি ডাকাতি বলে প্রচার করতে আমির হোসেন নিজ হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং নাটক সাজান।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার ও বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী, বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও হবিগঞ্জ সদর থানা–পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী উপস্থিত ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন