বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকার জন্য ২০০৫ সালে করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে বাসের আলাদা লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটাই বিআরটি প্রকল্প, যা ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। প্রকল্প শুরুর পর থেকেই সড়কটিতে গর্ত-খানাখন্দে মানুষজন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনটি শুরু হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের দুই পরিচালক ও অন্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার উড়ালপথ, ৬টি উড়ালসড়ক, ২৫টি বিআরটি স্টেশনসহ নির্মাণ করা হবে সাড়ে ২০ কিলোমিটার করিডর। এর মধ্যে ২টি বিআরটি লেন, ৪টি মিক্সড ট্রাফিক লেন, ২টি অযান্ত্রিক লেন, পথচারীর জন্য পাতালপথসহ সড়কের উভয় পাশে থাকবে ৬৫টি সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য সুবিধা। ৪টি সংস্থাকে ভাগ করে দেওয়া এসব কাজের মধ্যে সওজের কাজের অগ্রগতি ৬১ দশমিক ৭০ শতাংশ, সেতু বিভাগের কাজের অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, এলজিইডি ও ঢাকা বিআরটি কোম্পানির কাজের অগ্রগতি শতভাগ। সে হিসাবে মোট কাজ শেষে হয়েছে ৬৩ ভাগের কিছু বেশি।

ঢাকার জন্য ২০০৫ সালে করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে বাসের আলাদা লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটাই বিআরটি প্রকল্প।

শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি ২০১২ সালে একনেকে অনুমোদন পেলেও প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়নকাজ শুরু হয় ২০১৭ থেকে। এর মধ্যে নকশা প্রস্তুতকরণ, পরামর্শক নিয়োগ, মূল্যায়ন, পরিকল্পনা, ঠিকাদার নিয়োগসহ বিভিন্ন কারণে বাস্তবায়নকাজ শুরু করতে দেরি হয়। এর বাইরে সড়ক সচল রেখে কাজ চালিয়ে নেওয়া, ভূমি অধিগ্রহণ, খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু কারণে নির্মাণকাজে কিছুটা ধীরগতি ছিল। তবে অন্যান্য প্রকল্পের কাজের সঙ্গে তুলনা করলে এটা খুব বেশি নয় বা অস্বাভাবিক নয়। তা ছাড়া প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে কাজ থেমে নেই এক দিনের জন্যও।

সড়কে বর্তমান ভোগান্তির ব্যাপারে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটির টঙ্গী কলেজগেট এলাকা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত লেন তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এটুকু সড়কে মানুষের তেমন ভোগান্তি নেই, যানবাহন ঠিকমতো চলাচল করতে পারে। তবে কলেজগেট থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কটুকু বেহাল। তবে এটুকু সড়কের কাজও এই ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার মাইলফলক হাতে নিয়েছি। এটুকুর কাজ শেষ হয়ে গেলে আর জনভোগান্তি থাকবে না।’

শুরুতে প্রকল্পটি গাজীপুর থেকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন বিমানবন্দরেই শেষ হচ্ছে কাজ। সে ক্ষেত্রে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দরে আসা ২০ হাজার যাত্রী বা কেউ ঢাকায় যেতে চাইলে বাকি পথটুকু যাবেন কী করে, সে ক্ষেত্রে বিআরটির সুফল কতটা বাস্তবিক—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল বলেন, ‘এটা খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। প্রকল্পটি আসলে কেরানীগঞ্জ পর্যন্তই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক এটি হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে আমরা রাজধানীর হাউস বিল্ডিং থেকে যাত্রীদের জন্য আমাদের নিজস্ব শাটল সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখব। তাঁরা ইচ্ছে করলে শাটল বাসে চড়ে উত্তরার দিয়াবাড়ি এসে মেট্রোরেল (এমআরটি) ব্যবহার করতে পারবেন বা অন্যান্য জায়গায় যেতে পারবেন।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, প্রকল্পটির নকশায় ভুল বা কাজের ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে আপনাদের বক্তব্য কী, জানতে চাইলে শফিকুল বলেন, ‘আমাদের নকশায় ভুল থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়গুলো আমাদের সুস্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিলে বা আমাদের বললে ভালো হয়। প্রয়োজন হলে আমরা তা সংশোধন করব।

প্রকল্পটির শুরুতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ করে বাস বিআরটিতে নামানোর কথা ছিল। কিন্তু এই সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সাল। ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে ব্যয় আরও বাড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত নয়। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন