default-image

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে মাদক কারবারি ও বিজিবির মধ্যে গত শনিবার মধ্যরাতে গোলাগুলি হয়েছে। এতে পাচারকারীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় ৫ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি, দুটি গুলি এবং একটি করে বন্দুক ও কিরিচ জব্দ করা হয়।

আজ রোববার টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। দুপুরে ব্যাটালিয়নের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

বিজ্ঞাপন
ধারণা করা হচ্ছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে পাচারকারীরা নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, অধিনায়ক, টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান আনার সংবাদ পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দমদমিয়া চৌকির সদস্যরা নাফ নদীতে স্পিডবোট ও কাঠের বোট এবং স্থলভাগে কৌশলে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর সীমান্তে বসানো ‘নাইট ডিভাইসে’ দেখা যায়, নদীর মধ্যবর্তী লালদিয়া থেকে একটি কাঠের নৌকা নিয়ে তিন-চারজন পাচারকারী হ্নীলার জাদিমোরা উমরখাল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

এ সময় বিজিবি চারদিক থেকে ঘেরাও করে অভিযান চালায়। পাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি করলে বিজিবি কৌশলে অবস্থান নিয়ে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। তখন নৌকায় থাকা মাদক কারবারিরা নদীতে ঝাঁপ দেন। নদীতে স্রোত থাকায় কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি। পরে পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে ৫টি বস্তায় ৫ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা বড়ি, একটি দেশে তৈরি লম্বা বন্দুক, দুটি গুলি ও একটি কিরিচ জব্দ করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে পাচারকারীরা নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ইয়াবা পাচার কিছুতেই থামছে না। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরসংলগ্ন এলাকা দিয়ে বর্তমানে বেশি পাচার হচ্ছে। তবে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বসানো নাইট ডিভাইসের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ইয়াবার বড় বড় চালান জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপ-অধিনায়ক মেজর রুবাইয়াত কবির, মেডিকেল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মাসুম রেজা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন