বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার জন্য ইউএনও কিংবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. বাবুল আক্তার।
মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের আগে তাঁর বাবার সম্মাননা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। ইউএনও থাকবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। তাঁরা বাবার মরদেহ আসরের নামাজের আগেই ঈদগাহ ময়দানে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আসরের নামাজ শেষ হওয়ার পরও ইউএনও আসেননি। তিনি ব্যস্ত ছিলেন, তাই তাঁর প্রতিনিধি পাঠিয়ে দেন।

ইউএনও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকলে এসি ল্যান্ড এ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এই উপজেলায় এসি ল্যান্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁকে না পাঠিয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে সবে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া এক কর্মকর্তাকে দিয়ে এ কাজ করানোর এ ঘটনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।
মধুখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সংসদের সাবেক কমান্ডার খুরশিদ আলম

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুতে কীভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে, তার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ রয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৮–এর ক্ষমতাবলে প্রণয়ন করা আদেশটি হচ্ছে—বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শন আদেশ ২০২০। ওই আদেশের ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সরকারের প্রতিনিধিত্বকরণ’ শীর্ষক ধারায় (৪) বলা হয়েছে, মহানগর বা জেলা সদরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা এবং পৌরসভার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁরা ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বা জনগুরুত্বপূর্ণ’ কাজে ব্যস্ত থাকলে মহানগর বা জেলা সদরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা সদরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকবেন।

উপজেলা সহকারী সমাজসেবা পদটি একটি নবসৃষ্ট পদ। যে উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, সেখানে এ পদটি রয়েছে। এটি গত আগস্ট মাস থেকে চালু হয়েছে। সমবায় অফিসের তৃতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদাসম্পন্ন উচ্চমান সহকারীদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা করা হয়েছে।

বাবুল আক্তার বলেন, এর আগে তিনি কোনো দিন কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অনুষ্ঠানে ছিলেন না। এটি তাঁর কাজও নয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়ানোর অনুষ্ঠান নিয়ে মধুখালীর ইউএনও ব্যস্ত থাকায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কল্লোল সাহাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনারে অংশ নিতে অনুরোধ করেন ইউএনও। কিন্তু উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওই একই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সমাজসেবা কর্মকর্তার সুপারিশে এবং ইউএনওর সম্মতিতে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধার ওই গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে যান।

এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে মধুখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সংসদের সাবেক কমান্ডার খুরশিদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি অপমানজনক ঘটনা। নিয়ম হচ্ছে ইউএনওকেই এ সম্মাননা প্রদান করতে হবে। ইউএনও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকলে এসি ল্যান্ড এ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এই উপজেলায় এসি ল্যান্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁকে না পাঠিয়ে তৃতীয় শ্রেণি থেকে সবে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া এক কর্মকর্তাকে দিয়ে এ কাজ করানোর এ ঘটনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, এটি সুস্পষ্টভাবে একটি অন্যায় কাজ। কোনো নিয়মের মধ্যেই এ ঘটনা ফেলা যাবে না। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশাসন যে মূল্যায়ন করে না, এটি তারই একটি উদাহরণ।

জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশীকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানের শেষে জানাজা করতে। ওই অনুষ্ঠানের পর আমি ফুল নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু পরে জানতে পারি ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন হয়ে গেছে। এ জন্য আমার করার কিছুই ছিল না।’

কর্তব্যে অবহেলা করেননি দাবি করে ইউএনও বলেন, সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনারের সময় কীভাবে তিনি সালাম নিয়েছেন, তা জানা নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন