ইউসুফ জানান, এগুলো সিলিন্ডারের কোনোটিই তিনি নিজের টাকায় কেনেননি। শহরের একাধিক ব্যক্তি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান তাঁকে এই সিলিন্ডারগুলো কিনে দিয়েছে। প্রথম দুটি সিলিন্ডার দিয়েছে ময়মনসিংহের বহুরূপী নাট্য সংস্থা। আর সবশেষ গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমদাদুল হক চৌধুরী একটি সিলিন্ডার দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আশপাশের দানশীল মানুষের কারণেই কাজটা সহজ হয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থান করা অনেকেই আমাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েছেন। এখন প্রতিদিনই অক্সিজেনের জন্য প্রচুর ফোন আসে। ০১৬১০৫৪৫৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করলেই আমাদের দলের সদস্যরা অক্সিজেনের সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।’

করোনার শুরু থেকেই ইউসুফ ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবক দলের বন্ধুরা তাঁদের কাজের ছবি ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে আসছিলেন। এতে সবার কাছেই পরিচিত হয়ে ওঠে অক্সিজেন সরবরাহে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দলটি। ইউসুফের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী এই কাজে যুক্ত আছেন মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, আশরাফ হোসেন, সাফরান আাহমেদ, মেহেদী হাসান, অলক সরকার, তানিয়া ইয়াসমিন, রায়হান আকন্দ ও সজল। স্বেচ্ছাসেবীরা প্রত্যেকেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবহার শিখেছেন।

‘এখন প্রতিদিনই অক্সিজেনের জন্য প্রচুর ফোন আসে। ০১৬১০৫৪৫৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করলেই আমাদের দলের সদস্যরা অক্সিজেনের সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন।’

ইউসুফ পেশায় একজন মুদ্রণ ব্যবসায়ী। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন তিনি। তবে করোনার প্রায় দেড় বছরে তাঁর পরিচয় একটাই, তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী। বর্তমানে ইউসুফ ও তাঁর দল অক্সিজেন সেবা ছাড়াও করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন ও সৎকারের কাজও করছেন।

স্বেচ্ছাসেবীদের অক্সিজেন সেবা পাওয়া কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গভীর রাতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্টের খবর পেয়ে আলী ইউসুফ ও তাঁর দলের স্বেচ্ছাসেবীরা অক্সিজেন নিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করা খুব মহৎ একটি কাজ। এ কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের প্রতি আমরা সবাই কৃতজ্ঞ।’