আসকারের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলায়। নগরের এনায়েত বাজার এলাকায় তারা ভাড়া বাসায় থাকত। বাবা তারেক পোশাক কারখানায় মালামাল সরবরাহের ব্যবসা করেন। ছেলে হত্যার ঘটনায় বাবা বাদী হয়ে শনিবার কোতোয়ালি থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের বয়স ১৭ থেকে ২১–এর মধ্যে। এ মামলায় এক কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার দুই দিন আগে (বুধবার) আসকার ধ্রুব নামের তার এক প্রতিপক্ষকে মারধর করে। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আড্ডার জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি এসব তরুণেরা। তবে তাদের সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখনো পাওয়া যায়নি।

default-image

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সিটি করপোরেশনের জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাসের অনুসারী এবং ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির সাদেকের অনুসারীদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। শৈবাল দাস ও সাব্বির সাদেক নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আসকার সাব্বিরের অনুসারী। ঘটনার পর থেকে সাব্বিরের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে শৈবাল বলেন, তাঁর কোনো অনুসারী নেই। শিশু–কিশোরেরা কেন এসব অপরাধে জড়াবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

শনিবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা কার্যালয়ে আসকারের বাবা এস এম তারেক প্রথম আলোকে বলেন, ‘শত চেষ্টা করেও ছেলেকে ধরে রাখতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছি। বছরখানেক ধরে ছেলে অহেতুক আড্ডা, আজেবাজে বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছিল। তাকে বোঝানো হতো, এগুলো একদিন বিপদ হতে পারে। কিন্তু সে কারও কথা শুনত না।’

পরিচিতজনদের দিয়েও ছেলেকে বোঝাতেন বলে জানান তারেক। ফেরাতে না পেরে আল্লার কাছে প্রার্থনা করতেন, যাতে ছেলে ভালোভাবে চলে। আল্লাহ তাঁর কথা শোনেননি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আসকার দ্বিতীয়। ছোট ভাই দুই মাস বয়সী।
ছেলেকে ভালো করার জন্য কয়েকবার কোতোয়ালি থানা-পুলিশের গেটে এসেছেন বলে জানান তারেক। মানসম্মানের ভয়ে ফিরে যান। তাঁর পরিচিত এক ওসিকেও বিষয়টি বলেছিলেন। ছেলে রাজনীতি করত, সেটি জানতেন না তারেক। তবে সিগারেট খেত, সেটি জানতেন। পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল না।

ছেলের এ পরিণতির জন্য তারেক কাউকে দায়ী করেন না। তিনি নিজেকে দায়ী করে বলেন, ‘আমি ছেলেকে মানুষ করতে পারিনি। চেষ্টার কমতি ছিল না।’
শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের লাশঘরের সামনে ভিড় দেখা গেছে আসকারের সহপাঠীদের। ফারিহা নামের এক সহপাঠী বলেন, বিমানবাহিনীর বড় অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল আসকারের। এ জন্য সে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

আসকারের মা শহীদা বেগম জানান, ছেলেকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন সব ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচার চেয়ে আর কী হবে?
ওসি জাহিদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, পরিবারকে খেয়াল রাখতে হবে। পুলিশের একার পক্ষে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন