বিজ্ঞাপন

ওই নারী ৪ মে স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক অভিবাসনচৌকি (আইসিপি) দিয়ে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করেন। এর আগে ওই স্থলবন্দর দিয়ে আসা তিন শিক্ষার্থীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। ওই তিন শিক্ষার্থী করোনা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত কি না, তা পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এ নিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আসা চারজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হলো। বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ অভিবাসনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আজ শুক্রবার নতুন করে আরও ১৮ জন দেশে ফিরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিরেছিলেন ১৫ জন। এ নিয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে মোট ২৪৯ জন ভারত থেকে দেশে ফিরলেন। তাঁদের সবাইকে ৯টি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষে গত বুধবার ভারতফেরত ২৩ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি–পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। এর মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ওই নারীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। বর্তমানে তাঁকে উপজেলার একটি আবাসিক হোটেলে আইসোলেশনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তা ছাড়া সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তির নমুনার পরীক্ষার প্রতিবেদনে কিছুই না আসায় আবার নমুনা পাঠানো হয়েছে। অন্য ২১ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

default-image

এর আগে গত শনিবার ভারত থেকে ফেরত আসা ২৬ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি–পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। পরদিন রোববার তাঁদের মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। তাঁদের উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে বুড়িমারী স্থলবন্দরের কাছে আবাসিক হোটেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সঙ্গে তাঁদের অভিভাবক ও বাবা-মা রয়েছেন। ওই দিন অন্য ২৩ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও বুড়িমারী অভিবাসন পুলিশ সূত্রের ভাষ্যমতে, প্রথম দফায় ২৬ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনের জন্য এ স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ৮ মে দ্বিতীয় দফা আরও ১৪ দিন সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এরপর ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনুমতি নিয়ে ২৮ এপ্রিল প্রথম দিন ছয় ব্যক্তি দেশে ফেরত আসেন। পরে পর্যায়ক্রমে ২৪৯ জন দেশে ফিরেছেন।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর ও উপজেলা মিলে সাতটি আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টার করা হয়েছে। তা ছাড়া লালমনিরহাট নার্সিং ইনস্টিটিউট ও সদর হাসপাতালেও কোয়েরেন্টিনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কক্ষে পাঁচ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন