বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পালের সাক্ষাৎকার
বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ৫১ বছরে ৫১ কিলোমিটার, ৫২ বছরে ৫২ কিলোমিটার হাঁটব...
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ৫০ কিলোমিটার হাঁটলেন ময়মনসিংহের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। তিনি যুদ্ধ করেছিলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালি সীমান্তে। হাঁটলেন সেই হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহ শহর পর্যন্ত। হাঁটার মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। প্রথম আলো কথা বলেছে তাঁর সঙ্গে।
প্রশ্ন :
একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে ৫০ কিলোমিটার হাঁটার পর এখন কী মনে হচ্ছে?
বিমল পাল: খুব ভাল লাগছে। বিশেষ করে পুরো পথ আমার সঙ্গে হেঁটে এবং গাড়িতে করে ছিলেন তরুণেরা। অনেকেই পথের বিভিন্ন স্থান থেকে হেঁটে আমার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিছু পথ হেঁটেছেন। আর ময়মনসিংহে প্রবেশর সময় তো মানুষের স্রোত ছিল বলা যায়। আমি খুব উজ্জীবিত।
প্রশ্ন :
এত পথ হেঁটে আসার পর শারীরিকভাবে কেমন বোধ করেছেন?
বিমল পাল: এক কথায় বলা যায়, দারুণ। রাতে খুব ভালো ঘুম হয়েছে। সকাল থেকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি।
প্রশ্ন :
হাঁটার পরিকল্পনা করার সময় থেকে আপনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে ৫০ কিলোমিটার হাঁটা খুব কঠিন হবে না। হাঁটতে হাঁটতে কখনো কি মনে হয়েছে পারবেন না?
বিমল পাল: না, কখনো মনে হয়নি আমি পারব না। হাঁটার বিষয়টা আমার অভ্যাসে আছে। তা ছাড়া আমি দীর্ঘ পথ হাঁটার জন্য কিছু ব্যায়াম জানি। শুরুর পর ২২ কিলোমিটার হেঁটে ফুলপুরে এসে প্রথমে বিরতি নেই। সেখান সেসব ব্যায়াম করি। এরপর আবারও শুরু করি। কোনো সমস্যা ছাড়াই ৫০ কিলোমিটার হেঁটে ময়মনসিংহে আসি।
প্রশ্ন :
হেঁটে ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশের পর এবং পথে পথে মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন, এটি কেমন লেগেছে?
বিমল পাল: এককথায় আমি অভিভূত। কৃতজ্ঞ।
প্রশ্ন :
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে হেঁটেছেন। আরেকটু বিস্তারিত বলবেন কী?
বিমল পাল: মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করার জন্য হেঁটেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে আছে অসাম্প্রদায়িতকা, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরক্ষেতা আর সাম্যবাদ। আমি চাই শোষণহীন একটি বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবে আমি এসব কথা বললে তরুণ প্রজন্ম যতটুকু উজ্জীবিত হবে, ৫০ কিলোমিটার হাঁটার মাধ্যমে বললে আরও বেশি উজ্জীবিত হবে।
প্রশ্ন :
পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
বিমল পাল: যদি বেঁচে থাকি তাহলে স্বাধীনতার ৫১ বছরে হাঁটব ৫১ কিলোমিটার, ৫২ বছরে ৫২ কিলোমিটার...এভাবে হাঁটতেই থাকব। আর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একটি ট্রাস্ট গঠন করব। এই ট্রাস্ট দেশের তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আর চেতনা গড়ে তুলতে কাজ করবে।