বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির কারণ সম্পর্কে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সৈয়দ শামীম আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ৫১ জন সাক্ষী আছেন। এর মধ্যে মাত্র দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর দুই দফা করোনা পরিস্থিতির কারণে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ বন্ধ ছিল। আজ বৃহস্পতিবার আরও একজনের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই সন্ধ্যার দিকে সিলেট নগরের নয়াসড়ক এলাকার একটি পোশাকের দোকানের গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটি হলে একদল পুলিশ ব্যবসায়ী কামাল আহমদ চৌধুরীকে থানায় তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে। পরদিন সকালে তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁর পরিবার পুলিশের নির্যাতনের বিষয়ে অবহিত হয়।

এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের নামে নির্যাতনের মামলা হলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। মামলার পর দুই সপ্তাহের মাথায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই পুলিশের পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে থানা থেকে পালিয়ে গা ঢাকা দেন আতাউর।

পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি বরখাস্ত ওসি আতাউরসহ চারজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এরপর আদালত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ওই বছর ৬ এপ্রিল আত্মগোপন থেকে আতাউর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তিনিসহ অভিযুক্ত চার আসামি জামিনে মুক্তি পান।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদীসহ দুজন সাক্ষ্য গ্রহণের পর আজ বৃহস্পতিবার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সুনামগঞ্জের বীরগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আদালতকে তিনি তাঁর দেখা ঘটনার বর্ণনা দেন। পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণে ব্যবসায়ীকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করার বিষয়টি তিনি আদালতকে জানান। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় বরখাস্ত হওয়া ওসি আতাউর রহমান, বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবু তাহের, কনস্টেবল অধীর চন্দ্র ও রাজীব কান্তি দাস হাজির ছিলেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় থাকা সিলেটের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) নূরে আলম সিরাজী প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতে হাজির থাকার শর্তে চারজন আসামি বর্তমানে জামিনে আছেন। দুই দফা করোনা পরিস্থিতি ও পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত–পরবর্তী তাঁদের বিভাগীয় মামলার কারণে নির্যাতনের মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ বিলম্বিত হয়েছে। এখন দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণ করে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সিলেটের কোতোয়ালি থানায় তুলে নিয়ে পুলিশের নির্যাতনের শিকার কামাল আহমদ চৌধুরীর বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। তিনি পেশায় একজন পোলট্রি ব্যবসায়ী ছিলেন।

তাঁর ভাই শামীম আহমদ চৌধুরী মামলার বাদী। বিলম্বে হলেও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শামীম স্বস্তি প্রকাশ করেন বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে আলোচিত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার মতোই পুলিশি নির্যাতনের একটি আলোচিত ঘটনা।

রায়হান হত্যার প্রধান আসামি বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া যেভাবে পালিয়েছিলেন, একইভাবে আমাদের মামলার প্রধান আসামি তৎকালীন ওসি আতাউর পালিয়ে গিয়েছিলেন। শেষে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আমরা চাই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। যাতে এই বিচার দেখে এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর না হয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন