বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সোমবার সকাল আটটার আগেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি নারী ভোটাররাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসতে থাকেন। টেকনাফ সদরে মোহাম্মদিয়া রিয়াজুল জান্নাত দাখিল মাদ্রাসা, কচুবনিয়া নুরানি মাদ্রাসা, সাবরাংয়ের মুন্ডারডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাবরাং উচ্চবিদ্যালয়, নয়াপাড়া নবী হোসেন উচ্চবিদ্যালয়, শাহপরীর দ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়, উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হ্নীলার জাদিমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। আবার অনেক কেন্দ্রে পুরুষের সারিতে কাউকে দেখা যায়নি।

সকাল আটটায় মোহাম্মদিয়া রিয়াদুল জান্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় ভোট দিতে আসেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভোটার হওয়ার পর প্রথমবার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছি। গুমোট আবহাওয়ার মধ্যে এত নারী-পুরুষের উপস্থিতি এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।’

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মং ক্যউ মং বলেন, এ কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন ভোটার হয়েছেন। চারটি বুথে এ পর্যন্ত ১৫৬টি ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়েছে।

কচুবনিয়া নুরানি মাদ্রাসাকেন্দ্রের ভোটার ২ হাজার ৩৪১ জন। সকাল ১০টায় নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘সকাল সকাল ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছি। তবে দীর্ঘ লাইনে আটকে আছি।’

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সানাউল্লাহ বলেন, ‘গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে নারী ভোটারের উপস্থিতি দেখে হতবাক হয়েছি। কেউ লাইন ছেড়ে যাননি। ৬টি বুথে ৪৮০টি ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়েছে।’

বেলা সাড়ে ১১টায় সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুথের সামনে বিপুলসংখ্যক নারী ভোটারের উপস্থিতি দেখা করা গেছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও কেউ সেখান থেকে সরেননি। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হোসাইন মাহমুদ আরাফাত বলেন, এই কেন্দ্রে ১ হাজার ৯৪৩ জন ভোটার। এ পর্যন্ত ৫টি বুথের মাধ্যমে ১ হাজার ১৩৫ ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়েছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় সাবরাং উচ্চবিদ্যালয়ের বুথের সামনে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

কেন্দ্রে দেখা হয় আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আনারস প্রতীকের প্রার্থী সাবেক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ভোট দিয়েছি। বৃষ্টিতে ভিজে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য উপস্থিত বিভিন্ন বয়সের নারীরা। এলাকার ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। এভাবে চললেই আমার বিজয় শতভাগ নিশ্চিত।’

নতুন ভোটার মোহাম্মদ আলী হোসাইন বলেন, ‘জীবনের প্রথম পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশি হয়েছি। তবে মাদকসংশ্লিষ্ট ও অশিক্ষিত চেয়ারম্যান প্রার্থী,

আত্মসমর্পণকারী ও মাদকসংশ্লিষ্ট থাকায় কোনো ইউপি সদস্য প্রার্থীকে ভোট দিইনি। শুধু সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।’

কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সেন্ট মার্টিন বিএন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ জালাল সরকার বলেন, এই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৬০। নয়টি বুথের মাধ্যমে সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা পর্যায়ক্রমে ভোট দেন। তবে এই কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
বেলা দেড়টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ বশির আহমদ উচ্চবিদ্যালয়কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা ও উনছিপ্রাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) মধ্যে উনছিপ্রাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র থেকে ৫০০ ব্যালট পেপার উধাও (ইউপি সদস্য) হওয়ার অভিযোগে দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এর আগে ইউপি সদস্য প্রার্থীর ব্যালট পেপার উধাও হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এই সময় টেকনাফ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফানুল হক চৌধুরীর গাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়। একপর্যায়ে গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির সামনের ও পাশের আয়না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেদারুল ইসলাম বলেন, টেকনাফের চারটি ইউপি নির্বাচনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে ভোট গ্রহণ হয়।

উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থীর ব্যালট পেপার উধাও হওয়ার প্রসঙ্গে বেদারুল ইসলাম বলেন, উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। নির্বিঘ্নে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, পুরো উপজেলায় ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। শুধু হোয়াইক্যং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যালট পেপার উধাও ছাড়া আর কোথাও সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি। শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ চলছে।

টেকনাফের ৪টি ইউনিয়নের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৪২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে ২৯৩টি বুথে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৫ জন ভোটার। এর মধ্যে নারী ৫৯ হাজার ১৭৫ জন। পুরুষ ৫৮ হাজার ৪৪০ জন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন