default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক স্থান থেকে একজন প্রবাসীসহ দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার রামরাইল ও বুধল থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়।  

লাশ দুটির একটি সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামের মধ্যপাড়ার আব্দুর রউফ চৌধুরীর ছেলে সৌদিপ্রবাসী শান্ত চৌধুরীর (৩৩) এবং অন্যটি জেলা শহরের ফুলবাড়িয়ার হিরু মিয়ার ছেলে আজিম খানের (২৭)।

স্থানীয় লোকজন, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে জেলার সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় সৌদিপ্রবাসী শান্তকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। রামরাইল এলাকার স্থানীয় আতিক তিয়াস নামের এক যুবক জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শান্তর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। আজ দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  

নিহতের ভাগনে মো. নিলয় বলেন, গতকাল বিকেলে কিছু না বলেই শান্ত হাতে টর্চলাইট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাত নয়টার দিকে রামরাইল এলাকায় মহাসড়কের পাশে শান্তর লাশ পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

৯৯৯ নম্বরে ফোন করা স্থানীয় বাসিন্দা আতিক তিয়াস বলেন, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রামরাইল এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারী অথবা কারও কবলে পড়ে ওই যুবক খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়।

জানা গেছে, গতকাল সকালে সদর উপজেলার বুধল গ্রামে কনের বিয়েবাড়ির কর্মী হিসেবে আজিজ, হাবুসহ ১০ জন কাজ করতে যান। বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আজিজসহ অন্যরা বুধল থেকে অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশার চালাক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশের রাস্তায় উল্টে পড়ে যায়। এতে আজিজ, জেলা শহরের শেরপুরের মো. সবুজ (৩৫), হাবু মিয়া (৩০) ও ফুলবাড়িয়ার দুধ মিয়া (৪৫) আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আরিফুজ্জামান হিমেল আহত আজিজকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই পরিবারের লোকজন আজিজের লাশ বাড়ি নিয়ে যান।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শান্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ‘সদর উপজেলার বুধলে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। নিহত ব্যক্তির পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ বা হাসপাতাল থেকে এ–সংক্রান্ত কোনো চিঠি থানায় আসেনি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন