বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজা মিয়া নামে এক ব্যক্তি হাইল হাওরের পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকায় গত রোববার সন্ধ্যায় জিওল মাছ দিয়ে বড়শি পাতেন। রাতে বোয়াল, শোলসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ টোপ গিলতে গিয়ে বড়শিতে ধরা পড়ে। সকালে গিয়ে বড়শিতে আটকা পরা মাছ ধরে নিয়ে আসেন মাছশিকারিরা। অন্য দিনের মতো আজ সোমবার সকালে মাছের খোঁজে গিয়ে রাজা মিয়া দেখেন বড়শিতে একটি পাখি ঝুলে আছে। পাখিটি তাঁর কাছে অচেনা। এ রকম পাখি তিনি এর আগে আর দেখেননি। পাখিটিকে বড়শি থেকে খুলে বাড়ি নিয়ে আসেন। পরে পরিচিতজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের এ রকম একটি অচেনা পাখি ধরার বিষয়টি জানান তিনি। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের লোকজন ওই দিন বেলা ১১টার দিকে পাখিটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

বন্য প্রাণী গবেষক সূত্রে জানা গেছে, কালিবক এ দেশের একটি বিরল পাখি। এটি কালো বক বা চরখুচি নামেও পরিচিত। এর ইংরেজি নাম ব্ল্যাক বিটার্ন (Black Bittern)। বৈজ্ঞানিক নাম ডুপেটর ফ্ল্যাভিকলিস (Dupetor flavicollis)। কালিবক দৈর্ঘ্যে ৫৮ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩০০ থেকে ৪২০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। মাথা ও ঘাড় বেয়ে সারা পিঠে কালো পালক নেমে ছড়িয়ে থাকে। ঘাড় ও গলার পাশটা কমলাটে। বুকে ও গলার মধ্যে খাড়া খাড়া কালচে রঙের টান। ঠোঁট হলদে ধূসর ও পা কালচে রঙের। এরা মাছ, ঘাসফড়িং, ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। কালিবক নিচু গাছ বা ঝোপঝাড়ের শুকনো ডালপালা দিয়ে বাসা করে। চারটি ডিম পাড়ে। ১৮ থেকে ২২ দিনে ডিম ফোটে। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের হাওর ও বিলে এদের দেখা মেলে। এরা নিশাচর। দিনে এদের দেখা মেলে না।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড়শিতে কালিবকটি ধরা পড়েছে। রাজা মিয়া সকালে বড়শিতে মাছের খোঁজ করতে গিয়ে পাখিটিকে পেয়েছেন। অচেনা পাখি ধরার কথা জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি মূলত নিশাচর পাখি। রাতে চলাচল করে। দিনে খায় না। জিবে বড়শি গেঁথে ছিল। ব্যথা না হওয়ার জন্য নাপা খাইয়েছি। বন বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে হাইল হাওরের বাইক্কা বিলে কালিবকটিকে অবমুক্ত করা রয়েছে। এখন আসলে কোথাও কোনো কিছু ধরা পড়লে লোকজন আমাদের জানায়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন