default-image

জনি অধিকারী ঢাকায় একটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে চাকরি করেন। বড় ভাই মৃণাল অধিকারীর বিয়ের জন্য মা–বাবা কনে দেখেছেন। বাড়ির ছোট ছেলে জনি অধিকারী কনে পছন্দ করলেই বিয়ের দিন–তারিখ ঠিক হবে। ভাইয়ের জন্য কনে দেখতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মারা যান জনি অধিকারী। জনি অধিকারী আর কখনো ভাইয়ের বিয়েতে থাকবেন না। দেখা হবে না হবু ভাবিকে।

গতকাল সোমবার সকালে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি এলাকায় বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষে ডুবে মারা যান ২৬ যাত্রী। মৃত যাত্রীদের মধ্যে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশ্চিম পশারীবুনিয়া গ্রামের রঞ্জন অধিকারীর ছেলে জনি অধিকারী (২৫) এবং একই উপজেলার চরখালী গ্রামের অহিদুল ইসলাম খানের ছেলে বাপ্পি খান (২৪) রয়েছেন। গতকাল রাতে জনি অধিকারীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। জনি অধিকারীর মা সুভাষিণী অধিকারী বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বড় ভাই ও দুই বোন মাতম করছিলেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শেষকৃত্যের জন্য জনি অধিকারীর মরদেহ বাড়ির শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় শেষবারের মতো জনিকে বিদায় জানানোর সময় বাড়ির উঠানে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শেষকৃত্যের জন্য জনি অধিকারীর মরদেহ বাড়ির শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় শেষবারের মতো জনিকে বিদায় জানানোর সময় বাড়ির উঠানে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জনি সবার ছোট। পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ায় জনি সবার আদরের ছিলেন। গত রোববার রাত নয়টার দিকে মায়ের সঙ্গে জনির মুঠোফোনে শেষ কথা হয়। জনি মুঠোফোনে জানান, বোনের মেয়ে সিঁথি হালদারের জন্য ল্যাপটপ কিনেছেন। ভাইয়ের বিয়ের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন। সোমবার ভোরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন।

বিজ্ঞাপন

জনি অধিকারীর ভাই মৃণাল অধিকারী বলেন, ‘জনি ছিল আমাদের সবার প্রিয়। বাড়ির যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওর সঙ্গে পরামর্শ করতাম। ওর মতামতকে সব সময় প্রাধান্য দেওয়া হতো। আমার বিয়ের পাত্রী খুঁজে পাওয়ার পর জনির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। জনির পাত্রী পছন্দ হলেই বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তার মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। ভাই আমার বিয়েতে আর কখনো থাকতে পারবে না। এটা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে।’

default-image

প্রতিবেশী ও জনির বন্ধু সবুজ মণ্ডল বলেন, জনি আর তিনি এক বয়সী। জনি বাড়িতে এলে তাঁরা একসঙ্গেই ঘোরাফেরা করতেন। পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় জনির সঙ্গে মারা যান বাপ্পি খান। বাপ্পি খানও জনির বন্ধু ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে বাপ্পি ঢাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে যান। বাপ্পির সঙ্গে জনির যোগাযোগ ছিল। জনি বাড়িতে যাবেন শুনে বাপ্পিও তাঁর সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে বাপ্পি খানের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন