ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারী দুই রোহিঙ্গা পরিবারের সাতজন আটক

ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারী দুই রোহিঙ্গা পরিবারের সাতজনকে উখিয়ার রোহঙ্গা ক্যাম্প থেকে আটক করেছে এপিবিএন সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে
প্রথম আলো

ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারী দুই রোহিঙ্গা পরিবারের সাতজনকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির থেকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৩ জি/ ১ ব্লক থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএনের) তাঁদের আটক করে। সেই সঙ্গে শরাণার্থীশিবিরে তাঁদের আশ্রয়দানকারী এক রোহিঙ্গা নারীকেও আটক করেছে এপিবিএন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার-১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক।

অনুপ্রবেশের পর আটক সাতজন হলেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন (৩৫), তাঁর স্ত্রী খতিজা বেগম (২৭), মেয়ে বিবি হাফছা (১২) এবং একই এলাকার আবদুর রহমান (২৭), তাঁর স্ত্রী সামজিদা বেগম (২৫), তাঁদের ছেলে মোহাম্মদ ওমর (৫) ও মেয়ে ইয়াছমিন ফাতেমা (৮)। আর আটক রোহিঙ্গা শরণার্থীর নাম রহিমা খাতুন (৬০)। তিনি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আমিন ও আবদুর রহমানের শাশুড়ি।

নাঈমুল হক বলেন, ভারত থেকে মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এ প্রবেশ করেন দুই পরিবারের এই সাত রোহিঙ্গা। ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নারী রহিমা খাতুনের বসতঘরে আশ্রয় নিতে গেলে গোপনে সংবাদ পেয়ে উখিয়া মধুছড়া ক্যাম্পের পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের আটক করে। রোহিঙ্গা শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কাছে নিয়ে গেলে তাঁদের কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ট্রানজিট সেন্টারে পাঠানো হয়।

শরাণার্থীশিবিরে তাঁদের আশ্রয়দানকারী এক রোহিঙ্গা নারীকেও আটক করেছে এপিবিএন। তিনি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আমিন ও আবদুর রহমানের শাশুড়ি।

আটক রোহিঙ্গা নাগরিকদের বরাত দিয়ে অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, রোহিঙ্গা আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে মিয়ানমার থেকে ভারতে যান। খতিজা ও সামজিদা তাঁদের মা রহিমাসহ ১৫ বছর আগে মিয়ানমার থেকে ভারতে যান। সেখানে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ আমিনের সঙ্গে খতিজা ও সামজিদার বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর রহিমা খাতুন তাঁর এক মেয়ে রাবেয়া বেগম ও তিনি ছেলে ছানাউল্যা, রোকন উল্যা, মো. সেলিমকে নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩–এর জি/ ১ ব্লকে বসবাস করতে থাকেন।

রহিমা খাতুন বাংলাদেশ থেকে ভারতে থাকা তাঁর মেয়ে ও জামাতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে সব সময় যোগাযোগ রাখতেন। আবদুর রহমান, মোহাম্মদ আমিন তাঁদের পরিবারসহ ভারতের মুরাদাবাদের বিকাশপুরী শরণার্থীশিবিরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত শরণার্থী হলেও তাঁরা সেখানে কোনো রেশন পেতেন না। সেখানে দুজন রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন। সেখানে তাঁদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার কোনো সুযোগ ছিল না, তাই তাঁরা বাংলাদেশের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-৩-এ বসবাসকারী তাঁদের শাশুড়ি রহিমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করে গত ২৮ জুন ভারত থেকে রওনা দেন। ৩০ জুন রাত আটটায় মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁরা পিকআপে করে উখিয়ার কুতুপালং বাজারে নামার পর রাত কাটিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেন।