default-image

একজন চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মোতালেব হোসেন ওরফে রিপন নামের এক ব্যক্তিকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঠাকুরগাঁওয়ের পৌর শহরের নর্দান ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অপরাধে গত বছরের ১২ জুলাই রংপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেডিসিন, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে রোগী দেখতেন মোতালেব হোসেন। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে তিনি এমবিবিএস, ডি-কার্ড (কার্ডিওলজি), পিজিটি মেডিসিন, সিসিডি-বারডেম, সিএমইউ–সহ (আলট্রা) নানা ডিগ্রি ব্যবহার করতেন। কিন্তু ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর থাকত না।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালানো হয়। সেই অনুসন্ধানে ফাঁস হয় মোতালেব হোসেনের সব ডিগ্রিই ভুয়া। তিনি ঢাকার এক চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে রোগী দেখে আসছিলেন। এর আগে ২০২০ সালের ১২ জুলাই এমবিবিএস, এফসিপিএস ডিগ্রিধারী পরিচয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগে রংপুরের হিউম্যান কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মোতালেব হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, মোতালেব হোসেন নিজেকে ঢাকার সাভারের নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোহাম্মদ রাকিবুল আহসানের ভুয়া পরিচয় দিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের নর্দান ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখে আসছিলেন। সন্দেহ হলে তাঁরা বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জানান। অভিযোগ পেয়ে গতকাল দুপুরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ফারুক হোসেন ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আশিষ কুমার সাহা সেখানে যান।

চিকিৎসা কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, মোতালেব হোসেন চেম্বারে রোগী দেখছেন। তাঁর দেওয়া ব্যবস্থাপত্রে বিএমডিসির নিবন্ধন সনদের নম্বর ছিল না। তাঁর সনদ দেখতে চাইলে অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধরে ফেলেন। পরে আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রাকিবুল আলম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুনকে বিষয়টি জানানো হয়।

চিকিৎসক রাকিবুল আলম বলেন, ওই ব্যক্তি মোহাম্মদ রাকিবুল আহসান নামের এক চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তিনি বিএমডিসির নিবন্ধন সনদ দেখাতে পারেননি। তাঁর বাড়ি কখনো বরিশাল আবার কখনো লালমনিরহাট বলছিলেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের লেখা ও ছবি অস্পষ্ট থাকায় তা ঠিকমতো বোঝা যাচ্ছিল না।

default-image

এ ঘটনার ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কাগজ যাচাই না করে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ করার অপরাধে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আফাজ উদ্দিন ভূইয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। চিকিৎসক সেজে প্রতারণা ও রোগীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার জন্য নিয়মিত মামলা করতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। পরে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আশিষ কুমার সাহা বাদী হয়ে গতকাল রাতে প্রতারণার মামলা করেন। সেই মামলায় মোতালেব হোসেন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক আফাজ উদ্দিন ভূইয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজনকে আজ সোমবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ঠাকুরগাঁও শাখার সভাপতি আবু মো. খয়রুল কবীর বলেন, ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগী দেখা অনৈতিক, প্রতারণার শামিল ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো চিকিৎসক রোগী দেখলে তাঁর ব্যবস্থাপত্রে বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কেউ তা না করলে দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন