বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কাগজে-কলমে এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী আছেন ৪০ জন। তবে মূলত পশ্চিম ইলিশার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল খালেক, রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিলনসহ তাঁদের কয়েকজন সহযোগী এ প্রকল্প থেকে সুবিধা পাচ্ছেন বলে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে।

তেঁতুলিয়া নদী থেকে উঠে আসা টাঙ্গির খালের একটি শাখা রাজাপুরের শান্তিরহাট পুলের গোড়ার কাছ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মালেরহাট সেতুর কাছ দিয়ে দারোগার খালে মিশেছে। এ শাখা খালের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার, যা সম্পূর্ণ দখল হয়েছে। এ আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে রাজাপুরে পাঁচটি বাঁধ, আর পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি বাঁধ দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক যুগ আগে পশ্চিম ইলিশার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল খালেক, রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিলন, নুরনবী, কাজল মিঝিসহ স্থানীয় পাঁচ-ছয়জন ওই খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।

স্থানীয় ৮-১০ জন কৃষক ও জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০-১২ বছর আগে খালে স্থানীয় লোকজন মাছ ধরতেন। এ খালের পানি দিয়ে আশপাশের এলাকায় বোরো আবাদ হতো। তখন খালের তীরে পাঁচ-ছয়টি পাম্প বসিয়ে নিয়মিত বোরো আবাদ করতেন কৃষকেরা। কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলের কারণে একসময়ের প্রবহমান খালটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে বোরো আবাদ। এদিকে বর্ষাকাল এলেই খালের আশপাশের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েন। এতে আশপাশের পুকুর, মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে যাচ্ছে। এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে খালপার, তীরের পাকা সড়কের স্থায়ীত্ব কমে যাওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এসব বিষয়ে উপজেলা পরিষদে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দখল করা আড়াই কিলোমিটার অংশে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের টাকায় তিন দফায় খাল খনন করা হয়েছে। সবশেষ মন্তাজ ব্যাপারীর বাড়ি থেকে আলমগীর মিয়ার চালকল পর্যন্ত প্রায় ২৯৭ শতাংশ খাল খনন করা হয়েছে। এ খননকাজের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। খননকাজ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ।

৪০ জন উপকারভোগীই খামারের ভাগ পাচ্ছেন। আর খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে আশপাশের এলাকায় কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, বরং এতে খালপার স্থায়ী হয়েছে।
আব্দুল খালেক, ইউপি সদস্য

কাগজে-কলমে এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী আছেন ৪০ জন। তবে মূলত পশ্চিম ইলিশার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল খালেক, রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিলনসহ তাঁদের কয়েকজন সহযোগী এ প্রকল্প থেকে সুবিধা পাচ্ছেন বলে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল খালেক বলেন, ৪০ জন উপকারভোগীই খামারের ভাগ পাচ্ছেন। আর খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে আশপাশের এলাকায় কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, বরং এতে খালপার স্থায়ী হয়েছে।

এদিকে মো. মিলন বলেন, আগে জোয়ারের সময় খালের দুই পার ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তাই ১০-১২ বছর আগে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করে মসজিদের সামনে প্রথমে একটি বাঁধ দেওয়া হয়। পরে যার যার জমির সামনের অংশ দখল করে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। অন্যদের মতো তাঁরও একটি অংশ আছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

সরকারি খাল মৎস্য বিভাগ এককভাবে খনন করতে পারে না। খননের আগে উপজেলা নির্বাহী ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের অনাপত্তিপত্র বা অনুমোদন দরকার হয়। এ খালও সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে খনন করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়ম মেনে মাছ চাষ হচ্ছে।
মো. জামাল হোসাইন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা

রাজাপুর ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, দখল হয়ে যাওয়া টাঙ্গির খালের রাজাপুর অংশে ৩টি পাম্পের অধীন প্রায় ১৫০ একরে বোরো আবাদ হতো। পশ্চিম ইলিশার অংশেও কিছু পাম্প বসত। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ একর জমিতে বোরো আবাদ হলেও এখন খালের আশপাশে আর বোরো আবাদ হয় না। রাজাপুরের দখল ও ভরাট হওয়া খালের অনেকগুলো অংশ এখন খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন বলেন, সরকারি খাল মৎস্য বিভাগ এককভাবে খনন করতে পারে না। খননের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভূমি কমিশনারের (এসি ল্যান্ড) অনাপত্তিপত্র বা অনুমোদন দরকার হয়। অনুমোদন পেলে তখন খনন করা হয়। এ খালও সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে খনন করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়ম মেনে মাছ চাষ হচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলী সুজা বলেন, টাঙ্গির খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ব্যাপারে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন