বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কয়েকজন কৃষক, কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টি ও উচ্চ জোয়ার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর, দক্ষিণ রাজাপুর, কানিবগার চর, ভোলার চর, পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের গাজিপুর, কাচিয়া ইউনিয়নের বারাইপুর, রামদেবপুর, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চরপাঙাশিয়া, ভেলুমিয়া ও ভেদুরিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুর, টবগী, চরমুন্সি, মদনপুর, মেদুয়া ইউনিয়নের চর নেয়ামতপুর, ভবানীপুর, তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর, মলংচড়া, চরমোজাম্মেল, মনপুরা উপজেলার কলাতলি, চরডেম্পিয়া, ঢালচর, কুকরি-মুকরি, মুজিবনগর, চর কচুয়া-চর শাহাজালালসহ ৭৪টি চরাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

ভোলা খামারবাড়ির তথ্যমতে, ভোলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

এলাকার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলার চরের ৩২ একর, কানিবগা চরের ৩২০ একর, নবীয়ারচরের ৩৫ একর, মাঝের চরের আবদুল হান্নান জমাদারের ৩২০ শতাংশ, সবুজ চৌকিদারের ২৪০ শতাংশ, মাইনুদ্দিন মাঝির এক একর, দক্ষিণ রাজাপুরের নুরুমাঝির এক একর, জাকির সরদারের ২ একর, জাহাঙ্গীর সরদারের এক একর, বেচু মাঝির ৪৮ শতাংশ, জয়নাল আবেদীনের এক একর, শাহে আলম জমাদ্দারের এক একর, আবু তাহেরের ৮০ শতাংশ, মাইনুদ্দিন চৌকিদারের ৫০ শতাংশ জমির সবজিখেত ডুবে গেছে।

ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কাচিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের সবজিখেত প্লাবিত হয়েছে। এখানের জমিতে চিচিঙ্গা, করল্লা, ক্যাপসিকাম, শসা, বিট, গাজর, পেঁয়াজ, মরিচ, তরমুজসহ রবি মৌসুমের সবজি চারা, বীজতলায় বীজ বপন করা ছিল।
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজউদ্দিন বলেন, বৃষ্টি ও উচ্চ জোয়ারে প্রায় তিন হাজার হেক্টর চরাঞ্চল-নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে টানা কয়েক দিন উচ্চ জোয়ার উঠলে বা জোয়ারে লবণ পানি থাকলে সঙ্গে বৃষ্টি হলে উল্লেখিত ফসলের ক্ষতি হবে।

চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহে আলম ফরাজি বলেন, রোববার মধ্যরাত থেকে জোয়ারের উচ্চতা বেড়েছে। জমির ওপর ২-৩ হাত পানি উঠে খেত, পুকুর ও মাছের ঘের ডুবে গেছে।

মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুরের কৃষক মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি জানান, তাঁর ২০ হেক্টর জমিতে লাগানো শসা, পেঁয়াজ, তরমুজ ও করলার খেত ভেসে গেছে। রোদ না উঠলে তাঁর অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হবে।

মদনপুরের চরপদ্মা গ্রামের কৃষক নাছির শিকদার বলেন, তাঁর খেতের মিষ্টিআলু, মরিচ ও সবজি ডুবে গেছে।

মদনপুর টবগীর ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, তাঁর এলাকায় ২০০ একর জমি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ একর জমিতে চারা লাগানো হয়েছে। বাকি জমিতে চারা লাগানোর আগেই জোয়ার সব প্লাবিত করছে।

দনপুরের আরেক কৃষক, ইউপি সদস্য ফারুক দৌলত বলেন, কার্তিকের শেষ দিকে জমি শুকালে কৃষকেরা সবজি খেত তৈরি করেন। অনেকে খেত তৈরি করছেন, বীজ পোঁতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু জোয়ার ওঠায় এসব খেত নষ্ট হয়ে গেছে। সার, ওষুধ, ছত্রাকনাশক, বীজ সব মিলিয়ে অন্তত একর প্রতি কৃষকের এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের ভোলা খামারবাড়ি সূত্র মতে, জোয়ার ও বৃষ্টিতে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির কোনো তালিকা হয়নি।
ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, স্বাভাবিক জোয়ার ওঠে ২ দশমিক ৮ মিটার। সোমবার ভোররাত ৪টায় মেঘনায় জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ২০ মিটার, যা বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে। দিনের জোয়ারের উচ্চতা আরও বাড়বে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর বলেন, তাঁরা প্লাবিত খেত পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এখনো ক্ষতি শুরু হয়নি। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে, তা আরও দুই-তিন দিন পরে বলা যাবে। তখন তালিকা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন