বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা ইউনিয়ন মদনপুর। বুধবার রাত ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত অস্ত্র নিয়ে ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাজারে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জামালউদ্দিনের (আনারস প্রতীক) নির্বাচনী কার্যালয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরে পাশের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন ওরফে নান্নু (নৌকা প্রতীক) নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আশপাশের কয়েকজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা পরে চর টবগী গ্রামে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতু হাওলাদারের বাড়িতে হামলা করে। সেখানে ঘর কুপিয়ে, ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট করা হয়। গুলিও চালানো হয়েছে। ঘটানো হয়েছে বিস্ফোরণ।

ইউপি সদস্য আলতু হাওলাদার বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামালউদ্দিনের লোকজন কয়েকটি বোমা ফাটিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাঁরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেলে গুলি ছোড়ে। গুলিতে তাঁর একাধিক গরু-ছাগল মারা গেছে। সন্ত্রাসীরা ঘরের বেড়া কুপিয়ে ও ভাঙচুর করে মালামাল লুট করেছে।

default-image

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছির উদ্দিনের দাবি, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জামালউদ্দিন মদনপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে নির্বাচিত হতে চান। তারই নমুনা নির্বাচনী কার্যালয় ও ইউপি সদস্যের বাড়িঘরে হামলা–ভাঙচুর। তিনি ঘটনাটি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। হামলায় তাঁর ১০ কর্মী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মাইনুদ্দিনসহ কয়েকজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জামালউদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন ইউপি সদস্য আলতুর নেতৃত্বে ভুট্টু, আলাউদ্দিনসহ একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বুধবার রাতে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় বঙ্গবন্ধু ক্লাবে ও ইউপি সদস্য আলতুর বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর করেছে। আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী তাঁকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চান। তাই এ ঘটনা সাজিয়েছেন।

এদিকে বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে দক্ষিণ কলাকোপা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রার্থী রাহাত তালুকদার (ফুটবল) উঠান বৈঠক করছিলেন। এ সময় একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী ইয়ার হোসেন (তালা) মোটরসাইকেলে মহড়া দিচ্ছিলেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর, তিনটি মোটরসাইকেল পানিতে ফেলে দেওয়া হয় ও একটি ওষুধের দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বজলার রহমান বলেন, বর্তমানে দুটি ইউনিয়নে পরিস্থিতি শান্ত আছে। মদনপুরের স্বতন্ত্র প্রার্থী লিখিত ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। উভয় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন