বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনাঞ্চলের দোখলা এলাকায় বন বিশ্রামাগারের সামনেই এই রক্ত চন্দন গাছটি অন্তত ৪০ বছর আগে লাগানো হয়েছিল। কয়েক মাস আগপর্যন্তও বনাঞ্চলের অন্য সাধারণ গাছগুলোর মতোই এটিকে সাধারণ গাছ মনে করত মানুষ। ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘পুষ্পা’তে লাল চন্দনগাছ নিয়ে নানা কাহিনি দেখার পর এটি এ এলাকার মানুষের নজরে আসে। গাছটিতে ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করলে মানুষের রক্তের মতো কষ বের হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, গাছটি দেখতে এসেছেন কয়েকজন। তাঁদেরই একজন মেহেদী হাসান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাছটির কথা জানতে পেরে দেলদুয়ার উপজেলা থেকে গাছটি দেখতে এসেছেন। তিনি দুর্লভ এ গাছ দেখার লোভ সামলাতে পারেননি।

মধুপুরের সুনীল চন্দ্র দাস জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন পূজা–পার্বণে এই রক্ত চন্দন ব্যবহার করেন। তাই এটিকে পবিত্র গাছ হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র গাছটি দেখার জন্য তিনি এসেছেন।

বন বিভাগের দোখলা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, উৎসুক লোকজন এসে গাছটিতে খুঁচিয়ে এর লাল কষ বের হওয়া দেখতেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে থাকেন এখানে। পরে গাছটি রক্ষা করার জন্য এর চারপাশে নেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে। গাছটি এখন দূর থেকে দেখতে দেওয়া হয় দর্শনার্থীদের।

মো. ইসমাইল হোসেন আরও জানান, এই গাছের ফুল-ফল ও বীজ না হওয়ায় বংশবৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বংশবিস্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কে বা কারা এই গাছটি রোপণ করেছিলেন, এর কোনো তথ্য বন বিভাগের কাছে নেই। দোখলা রেস্টহাউসের সাবেক এক রক্ষণাবেক্ষণকারী (কেয়ারটেকার) জানিয়েছেন, ৪০ বছর আগে গাছটি লাগানো হয়েছিল।

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মহিউদ্দিন জানান, এই মহামূল্যবান চন্দনগাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে এর বংশবিস্তারে উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি প্রয়োজনীয় সব রকম সহযোগিতা করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন