বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাসান বলেন, মির্জাপুর থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর নানাভাবে কাটে প্রায় পাঁচ বছর। এক বন্ধুর সহায়তায় ঢাকার মুগদা এলাকায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। বাড়তি আয়ের আশায় পাশাপাশি দোকান চালু করেন। সেখান থেকে যাত্রাবাড়ীতে অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। এভাবে কেটে যায় দীর্ঘ ১২ বছর।

একদিন বাথরুমে পা পিছলে ডান পায়ের গোড়ালির রগ ছিঁড়ে যায়। এতেই তাঁর জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। শিক্ষকতার চাকরি চলে যায়। বন্ধ হয় ব্যবসা। সুস্থ হয়ে গ্রামে ফেরেন। বাড়ির পাশের বাঙ্গলা বাজারে মাত্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে এক দোকানে তিনি ওষুধ, গ্যাসের সিলিন্ডার ও মুঠোফোনে টাকা দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেন। সে ব্যবসা করে তাঁর সংসার চলছিল না। ছয় বছর পর তিনি ব্যবসা ছেড়ে মধুপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি নেন। কিন্তু সেখানে বেতন না পেয়ে আবার গ্রামে ফেরেন। বাড়ি ফিরে পুরোনো দোকান চালানো চেষ্টা করলেন কিন্তু লাভ হয়নি। বাড়িতে তখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা।

হাসান জানান, তিন বছর আগে তিনি তাঁর এক আত্মীয়কে দেখে মৌমাছি পালনের আগ্রহী হন। প্রথমে তিনি টাঙ্গাইলের বিসিক থেকে ছয় মাসব্যাপী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। গত বছরের অক্টোবরে তিনি মধুপুরে মধু সংগ্রহের কাজ করেন। এক মাস আগে শুভুল্যা আসেন। অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে দেড় শতাধিক বাক্সে লাখো মৌমাছি পালন করছেন। খামারে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি মৌসুমের (প্রায় আট সপ্তাহ) জন্য শুভুল্যাতে চার হাজার টাকায় জমি ভাড়া নিয়েছেন। বর্তমানে সপ্তাহে প্রায় পাঁচ মণ মধু সংগ্রহ করেন। ৪০০-৫০০ টাকা কেজি দরে সে মধু বিক্রি করেন। প্রয়োজনীয় ব্যয় আর শ্রমিকের মজুরি বাদে যে টাকা থাকে, তাতে সংসার ভালোভাবে চলছে।

মধু কিনতে আসা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, কেনার পাশাপাশি মধু উৎপাদন দেখার সুযোগ পেয়ে তাঁর ভালো লেগেছে।

বাঙ্গলা গ্রামের মো. নুরুজ্জামান খান বলেন, এখানে প্রাকৃতিক উপায়ে মধু আহরণ করা হয়। যা খাঁটি। এ জন্য তিনি বারবার এ মধু কিনতে আসেন।

হাসান বলেন, মৌমাছি চাষে অনেক পরিশ্রম। মূলধনও লাগে বেশি। এ কাজে যাঁরা জড়িত, তাঁদের সরকারি প্রণোদনা দেওয়া উচিত। তাহলে অনেকে এ কাজে আগ্রহী হবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন