default-image

রংপুরে মাইগ্রেশনের সুযোগ করে দেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার মেডিকেল কলেজের সামনে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় রংপুর–দিনাজপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তির শিকার হন মানুষ।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, রংপুর নগরীর রংপুর–দিনাজপুর সড়কের পাশে অবস্থিত নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নেই। হাসপাতাল থাকলেও তা কেবল নামেই চলছে। সেখানে কোনো রোগী নেই। বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তিন শতাধিক দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে কলেজ চালালেও এখন পর্যন্ত অনুমোদন আনতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষাজীবন ধ্বংস করছে কর্তৃপক্ষ, হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এ সমস্যা নিরসনে অন্য মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এর আগে এই দাবিতে তাঁরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। এ ছাড়া রংপুরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন
default-image

বুধবার বেলা একটা থেকে রংপুর–দিনাজপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন নর্দান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

অন্য মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনের সুযোগ না করে দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তবে এর আগে নর্দান  প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাজকিনুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, খুব শিগগির এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।  
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশীদ জানান, নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মাইগ্রেশনের সুযোগ দেওয়াসহ বেশ কিছু দাবিতে আন্দোলন করছেন। এঁদের মধ্যে নেপালসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। প্রতিদিনই তাঁরা তাঁদের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) আলতাফ হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন