বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জের বনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে প্রায় দেড় শতাধিক সংঘবদ্ধ চোরা মাছশিকারি রয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা, রামপাল, মোংলা ও মোরেলগঞ্জ; খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা; সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় তাঁদের অবস্থান। বিভিন্ন সময় বন বিভাগের অভিযানে বিষসহ কিছু অসাধু জেলে ধরা পড়লেও অধিকাংশ সময় তাঁদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। মাছ শিকারে যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণেও এসব এলাকায় কোনো উদ্যোগ নেই। বিষ দিয়ে মাছ ধরায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় খালে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা পড়ছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগরে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এনামুল হক বলেন, গতকাল সকালে গোপন সংবাদে ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি নৌকা জব্দ করেন তাঁরা। নৌকায় বিষ ও বিষ দিয়ে ধরা মাছ ছিল। তবে জেলেরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় বন আইনে একটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। জব্দ নৌকাটি ধ্বংস করা হয়েছে। সুন্দরবনে বর্তমানে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে।

সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলার চিল এলাকার জেলে মুকুল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। গেল কয়েক বছর ধরেই বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার বেড়েছে। প্রথম দিকে কেবল ছোট ছোট ভারানি খালগুলোতে কিছু জেলে বিষ দিয়ে মাছ ধরতেন। কিন্তু দিন দিন তা বাড়ছে। তাঁদের পেছনে বড় চক্র রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের এক জেলে প্রথম আলোকে বলেন, বিষ দিয়ে মাছ শিকারসহ বহু অপকর্মের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। তাঁদের অপকর্মের কথা বললে ধরে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। বিষ প্রয়োগের কারণে সাধারণ জেলেরা ঠিকমতো মাছ পান না। বনের অভয়ারণ্যগুলোতে প্রবেশ ও মাছ ধরা নিষেধ। কিন্তু সেখানে টাকা নিয়ে ঘাট দেন বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মোংলা আঞ্চলিক শাখার আহ্বায়ক নূর আলম শেখ বলেন, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রচ্ছায়ায় একশ্রেণির জেলে নৌকা ও ট্রলার নিয়ে বনের ভেতরে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছেন। এতে শুধু মাছ নয়, পানি বিষাক্ত হয়ে অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। বিষ দিয়ে মাছ শিকার করায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এসব কীটনাশক যেখানে প্রয়োগ করা হয়, সেখানে ছোট-বড় সব প্রজাতির মাছ মারা যায়। জেলেরা সেখান থেকে শুধু বড় মাছগুলো সংগ্রহ করেন। ছোট মাছগুলো তাঁরা নেন না। এই ছোট মাছগুলো ছিল বড় মাছের খাবার। ফলে ওই এলাকার খাদ্যচক্রেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, এসব মাছ শিকারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিটি ক্যাম্প ও স্টেশনের বনরক্ষীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন