default-image

অপহরণের পর ‘গুম’–এর মামলার ছয় বছর পর ভিকটিম মামুন (২৬) ফিরে আসায় ছয় আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত মামলার তদারকির দায়িত্বে থাকা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে ব্যাখ্যার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌসের আদালত ওই আদেশ দেন। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও সিআইডির এসআই জিয়াউদ্দিন উজ্জ্বলের বিষয়ে আদালত নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে নির্দেশ দেবেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হওয়ায় সিআইডির এএসপি হারুন অর রশীদকে ব্যাখ্যার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশ ও সিআইডির অপর দুই কর্মকর্তার বিষয়ে আদালত নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আদেশ দেবেন।
অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন এক গৃহবধূ, তাঁর বাবা রহমত আলী, ভাই রফিকুল ইসলাম, খালাতো ভাই সাগর, সোহেল ও মামা সাত্তার মোল্লা। আদালতে তাঁরা ছাড়াও ভিকটিম মামুন, পুলিশ ও সিআইডির তিন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার বিবাদীপক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন জানান, ‘ওই মামলায় আদালত ছয় আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই অপহরণ মামলার বাদী, জবানবন্দি দেওয়া ভুয়া সাক্ষীসহ পুলিশ সিআইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় তাঁদের শাস্তি ও কারাভোগকারী ছয়জনের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছি। আদালত বলেছেন এ জন্য অন্য আরেকটি মামলা করতে হবে।’
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) সৈয়দ জিল্লুর রহমান বলেন, আদালত আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ ছাড়া সিআইডির এএসপিকে ব্যাখ্যা দেওয়া থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে অপর দুই কর্মকর্তার বিষয়ে আদালত নথি পর্যালোচনা করে আদেশ দেবেন।
এদিকে মামলার আসামি ওই মেয়ে বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা জেল খেটেছি ও হয়রানির শিকার হয়েছি। খুন না করে, অপহরণ না করে মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছি। দোষ না করেও রিমান্ডের নামে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু আদালতে ন্যায়বিচার পাইনি। আদালতের কাছে চাই, আমাদের সেই ছয় বছর ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’ এ ছাড়া রাষ্ট্রের কাছে তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ মে মামুনের বাবা চাঁদপুরের মতলবের শাঁখারীপাড়ার আবুল কালাম তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করা হয়েছে অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় ওই মেয়ে, তাঁর বাবা রহমত আলী, ভাই রফিকুল ইসলাম, খালাতো ভাই সাগর, সোহেল ও মামা সাত্তার মোল্লাকে। পরে পুলিশ ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে রিমাণ্ডের পর কারাগারে পাঠান। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মামলার সাক্ষী সাত্তারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম। সেই জবানবন্দিতে মাকসুদা বলেন, আসামিরা মামুনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ফেলে দেন। পুলিশের তদন্তেও তা–ই জানা গেছে বলে জানান ওই সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর। পরবর্তী সময়ে মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু মামুনের সন্ধান না পাওয়ায় ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ২৩ মাস পর ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামুন নারায়ণগঞ্জে আদালতে এসে হাজির হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই দিন আদালত এ ঘটনায় পুলিশ ও সিআইডির তিন কর্মকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0