default-image

চার পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ঠিকঠাক উঠে দাঁড়াতে পারছে না। খেতে চাইছে, তা–ও ঠিকমতো পারছে না। মাথা, চোখসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত আছে। ক্ষতও হয়েছে। শরীরটা দুর্বল। এই অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মায়া হরিণশাবকটিকে মমতা দিয়ে সুস্থ করে তোলার সযত্ন চেষ্টা চলছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী চা-বাগানের শ্রমিকদের হাতে সম্প্রতি একটি মায়া হরিণশাবক ধরা পড়ে। মায়া হরিণশাবকটির বয়স এক মাস হতে পারে। খবর পেয়ে শাবকটিকে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ উদ্ধার করে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে আসে। কিন্তু মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শাবকটি ক্রমে অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৮ এপ্রিল বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ মায়া হরিণশাবকটিকে বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে হস্তান্তর করে। সেই থেকে ফাউন্ডেশনেই মায়া হরিণশাবকটির সেবাযত্ন চলছে। মায়া হরিণশাবকটি মাথা, চোখ ও পেটে আঘাত পেয়েছে। আঘাতে একাধিক দাঁত ভেঙে গেছে। ক্ষতস্থানে পোকা ধরে গেছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীমঙ্গলে প্রাণী চিকিৎসক কর্ণ চন্দ্র মল্লিককে দেখানো হয়েছে। তাঁর পরামর্শে বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। গতকাল শনিবার মৌলভীবাজার ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন নিরোদ চন্দ্র সরকারকেও দেখানো হয়েছে। চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র ও পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে। খেতে চাইলেও ঠিকমতো খেতে পারছে না শাবকটি। নানা রকম শারীরিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে দুধ ও নরম করে কলা ও ডেউয়া ফল খাওয়ানো হচ্ছে। ঠিকমতো খেতে না পারায় খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে মায়া হরিণশাবকটি। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, খাওয়ারও চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্বলতার কারণে এখনো সোজা হয়ে বেশি সময় দাঁড়াতে পারে না।

ভেটেরিনারি সার্জন নিরোদ চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, হরিণশাবকটি ব্রেনে আঘাত পেয়েছে। নিচের পাটির দাঁত ভেঙে গেছে। লেজের গোড়ায় ক্ষত হয়েছে। ওষুধ দেওয়া হয়েছে। মায়ের দুধের সাপোর্ট পায়নি। একদম ছোট বাচ্চা।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি সরোয়ার আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফুলবাড়ী চা-বাগানে এটি ধরা পড়ে। আঘাতের কারণে ডান চোখ ফুলে গিয়েছে। নাভির কাছে পোকা হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এত ছোট বাচ্চা। এটিকে বাঁচানোটাই জরুরি। সেবা ফাউন্ডেশনে এর চিকিৎসা ও শুশ্রুষা চলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন