মিরসরাইয়ের ১৬ 'ত্রাণসেনা'

বিজ্ঞাপন
default-image

১৬ সদস্যের তরুণ দলটির কেউ ছাত্র, কেউ পেশাজীবী কেউবা সংস্কৃতিকর্মী। কিন্তু করোনাভাইরাস গত তিন মাসে তাঁদের সবার পরিচয় এক করে দিয়েছে। সে পরিচয়, তাঁরা ‘ত্রাণসেনা’। করোনার এই অসহায় সময়ে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত হাজারো পরিবারের সহায় হয়েছেন এই তরুণেরা। যখনই খবর পেয়েছেন কারও ঘরে খাবার নেই, সেখানেই দ্রুত পৌঁছে গেছে তাঁদের সাহায্যের হাত।

গত তিন মাসে তাঁরা চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১ হাজার ১৭টি পরিবারকে ৫ লাখ ২৫ হাজার ২৩৩ টাকার খাদ্যসহায়তা দিয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি জরুরি সহায়তার ২৬০টিসহ আরও ৩টি সংগঠনের দেওয়া ১ হাজার ২৪০টি পরিবারে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন এই তরুণেরা। বেশির ভাগ স্থানে এখন ত্রাণ–কাজ বন্ধ থাকলেও থামেনি এই তরুণদের খাদ্যসহায়তা।

>তিন মাসে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ১ হাজার ১৭টি পরিবারকে ৫ লাখ ২৫ হাজার ২৩৩ টাকার খাদ্যসহায়তা।

করোনার শুরুর সময়ে গত ২৩ মার্চ কাজ হারানো অসহায় মানুষদের সহায়তার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মিরসরাইয়ের তরুণ সংস্কৃতিকর্মী মুহিবুল আরিফ। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সহায়তায় এগিয়ে আসেন মিরসরাইসহ বিভিন্ন উপজেলার অনেক মানুষ। হাতে হাতে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পাঠান তাঁরা। অনেকেই কিনে দেন খাদ্যসামগ্রী। বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ। রমজানে এসবের সঙ্গে চিড়া, ছোলা, চিনি, খেজুর, সেমাই ও গুঁড়াদুধ যুক্ত করা হয়। তখন এই মানবিক কাজকে এগিয়ে নিতে মুহিবুলের সঙ্গে যোগ দেন আবদুল মতিন, নাহিদ পারভেজ, তামজীদ রুজেল, মো. ফাহিম, নুর উদ্দিন, তানভীর তুহিন, মো. জাহিদুল শাকিল, আশরাফুল আরেফিন, অনিক চৌধুরী, মেহেরাজ চৌধুরী, সাদমান সময়, নাজিম নাঈম, লিংকন, রিপন গোপ পিন্টু, শাহীন ভূঁইয়া। এঁদের সঙ্গে নিয়ে উদ্যোক্তা মুহিবুল আরিফের সঙ্গে পুরো ত্রাণকাজ সমন্বয় করেন দেশে ছুটিতে আসা মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী মো. আবদুল মতিন।

মুহিবুল আরিফ বলছিলেন, ‘করোনাভাইরাসের শুরুর সময় হঠাৎ কাজ হারানো মানুষদের যে সংকট দেখেছি, তা থেকেই তাঁদের জন্য কিছু করতে চেয়েছি আমরা। খাদ্য বিতরণে দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি আমরা বেশি নজর দিয়েছি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার–গুলোর দিকে, যারা কাজ হারিয়ে পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছে। নাম-পরিচয় গোপন রেখেই ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে পরিবারগুলোর মাঝে।’

মানুষের বাড়িতে ছুটা কাজ করে সংসার চালাতেন হোসনেআরা বেগম। করোনায় কাজ হারিয়ে এক সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন। গত তিন মাসে তিন দফা এই তরুণদের দেওয়া খাদ্যসহায়তা পেয়েছেন তিনি। এই নারী বলেন, ‘করোনায় আমার স্বামী ও আমি দুজনই বেকার হয়ে পড়ি। যখন ঘরে একমুঠো চাল ছিল না, তখন ওই যুবকেরা আমার ঘরে এসে খাবার দিয়ে যায়। সেই খাবার পেয়ে প্রাণে বেঁচেছি আমরা।’

এই ত্রাণকাজের সমন্বয়ক আবদুল মতিন বলেন, ‘আমাদের ত্রাণকাজ অব্যাহত আছে। ১৮টি অতিদরিদ্র পরিবারকে নিয়মিত খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। করোনার এই কঠিন সময়ে সবাই একসঙ্গে মানুষের জন্য কিছু করতে পেরে যে তৃপ্তি পেয়েছি, তা আর কিছুতেই পাব বলে মনে হয় না।’

মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই তরুণদের বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই তরুণ দলের মাধ্যমে আমরা ৩৩৩ নম্বর থেকে কল আসা ২৬০টি পরিবারকে তাৎক্ষণিক সরকারি খাদ্য–সহায়তা দিতে পেরেছি। ওরা দিনরাত যেভাবে কাজ করেছে, তা এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন