default-image

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশ ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়া ১৬০ জনকে যাচাই-বাছাইয়ের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এতে সুপারিশ না পাওয়া অনেকে অংশ নেন। আজ বুধবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যরা নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন করেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় কমিটির সাক্ষ্য গ্রহণ প্রকাশ্য করারও দাবি জানানো হয়েছে মানববন্ধন থেকে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আবদুল আজিজ। পরিচালনা করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল।

জামুকার সুপারিশ ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়া ১৬০ জনকে নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হয় গত মাসে। চার সদস্যের কমিটি যাচাই-বাছাই করে। কমিটি ১৬০ জনের মধ্যে ৩৪ জনের ব্যাপারে নিয়মিত ভাতা পাওয়ার সুপারিশ করে। ১১০ জনের বিষয়ে এই সুপারিশ করা হয়নি। বাকিদের বিষয়ে বিভিন্ন রকম সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই যাচাই-বাছাই কমিটির সমালোচনা করেন সুপারিশ না পাওয়া ব্যক্তিরা। তাঁরা জানান, চার সদস্যের কমিটির মধ্যে একজন ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। বাকি তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এই তিনজনের মধ্যে দুজনকে নিয়ে তাঁদের সন্দেহ আছে। কোন দুজন তা উল্লেখ করেননি বক্তারা।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিতে বক্তারা আরও বলেন, জামুকার নির্দেশনায় ছিল প্রকাশ্যে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে হবে। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রকাশ্যে কারও সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। যাঁরা সুপারিশ পাননি, তারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাজনীতির শিকার হয়েছেন। অথচ তাঁরা সবাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান, কবিকুঞ্জের সভাপতি রুহুল আমিন প্রামাণিক, মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-২ রজব আলী, আইনজীবী এন্তাজুল হক, মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগারের সহসভাপতি মজিদা বীথি, সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান, এফএ ফাউন্ডেশনের মহানগর শাখার সভাপতি আলতাফ হোসেন প্রমুখ।

এদিকে মানববন্ধনে করা দাবির বিষয়ে মহানগর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাজশাহী মহানগরীর ৫৫২ জন ভাতাভোগীর মধ্যে ১৬০ জনের ব্যাপারে জামুকার সুপারিশ ছিল না। সুপারিশ ছাড়া তাঁরা গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন। এ কারণে জামুকা তাঁদের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করতে বলে। নিয়মনীতি অনুসরণ করেই যাচাই করা হয়েছে। তাই এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন