তামান্নার ভাই কলেজছাত্র নাইমুর রহমান জানান, হাসপাতালে পাঁচ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে তাঁর বোন মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে বোনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি তালা উপজেলার কাশিপুরে আনা হবে।

নাঈমুর রহমান আরও বলেন, কলারোয়া পৌরসভার সাদ্দাম হোসেন নামের এক মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছেলের সঙ্গে তাঁর বোনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত আড়াই বছরেও দেশে না ফেরায় ভালো পাত্র পেয়ে তামান্নাকে দুই মাস আগে বিয়ে দেন মা-বাবা। এর মধ্যে সাদ্দাম দেশে ফেরেন। এ ছাড়া আবদুর রউফ নামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে তাঁদের। দুই পক্ষ মিলে তাঁর বোন তামান্না ও ভগ্নিপতি ফারহাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক লিটন হোসেন জানান, তামান্নার শরীরে পেট্রল ঠেলে আগুন দিলে মুখমণ্ডল ও শরীরের অধিকাংশ স্থান কমবেশি পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, তামান্নার শরীরের ৪২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাঁর স্বামী ফারহাদ হোসেনেরও ডান হাতের কিছুটা অংশ পুড়ে গেছে। তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার রাতে তিনি ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে কথা বলেছিলেন তামান্নার সঙ্গে। তাঁর বর্ণনার সঙ্গে মামলার এজাহারের মিল রয়েছে। শুক্রবার রাতে দেখে মনে হয়েছিল তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার রায় জানান, শুক্রবার বিকেলে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানায় তামান্নার বাবা আবদুল হক বাদী হয়ে মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাদ্দাম হোসেন এবং প্রতিবেশী আবদুর রউফের ছেলে ফিরোজ, মেয়ের জামাই আবদুল হামিদ ও সালাউদ্দিন, আত্মীয় রাজু আহমেদ ও তুহিন হোসেনের নাম উল্লেখ করে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতে তুহিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেনকে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন