বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথের মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে। এ জন্য শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ও চাঁদপুরের হরিনা ফেরিঘাট ব্যবহার করতে হয়। ২০০১ সালে নৌপথটি উদ্বোধন করা হয়। এই পথ দিয়ে বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্যবাহী যানবাহন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় চলাচল করে। পথটি ব্যবহার করার ফলে যানবাহনগুলোকে ঢাকার যানজটে পড়তে হচ্ছে না। আর দূরত্ব কমেছে ৬০–৭০ কিলোমিটার।

শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সিগঞ্জের লৌহজং (মাওয়া) পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত আছে। আগামী জুনে জনসাধারণের জন্য পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলছে সেতু বিভাগ।

সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় গত বছর জুন মাসে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৩ কোটি টাকা। তিনটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। এগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান দোহা, স্পেনের তিপশা ও জাপানের নিপ্পন কোয়েক।

গত জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। প্রথম এক মাস ট্রাফিক সার্ভে করা হয়। ওই পথ দিয়ে কত যানবাহন চলাচল করে, কী ধরনের যানবাহন চলাচল করে। তাতে অর্থনৈতিক প্রভাব কী রকম আছে।

এরপর মেঘনা নদীতে মরফলজি ও হাইড্রোলজি পরীক্ষার কাজ শুরু করা হয়। গত মার্চ থেকে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করা হয়েছে। মেঘনা নদী ও নদীর তীর মিলিয়ে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় মাটি পরীক্ষার জন্য বোরিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে নদীতে আটটি ও স্থলে চারটি স্থানে বোরিং করা হবে। ১২০ থেকে ১৫০ মিটার গভীর থেকে মাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মেঘনায় সয়েল টেস্ট বোরিংয়ের কাজ করছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ডেভেলপমেন্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (ডিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প সহকারী প্রকৌশলী তানভির আহম্মেদ বলেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে সয়েল টেস্টের বোরিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চারটি স্থানের মাটি তুলে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। একটি শরীয়তপুরের নরসিংহপুরে আর তিনটি চাঁদপুরের হরিনায়। আগস্টের মধ্যে সয়েল টেস্টের মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ হবে।

মেঘনা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লিয়াকত আলী বলেন, আগামী আগস্টের মধ্যে মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ করে ডিসেম্বরে মন্ত্রণালয়ে সব প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা, রিসেটেলমেন্ট পরিকল্পনা, সেতুর অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কত কিলোমিটার সেতু হবে এবং এর ব্যয় কত হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন