বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকাল নয়টায় কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠ হাঁটুপানিতে ডুবে আছে। তাই হাঁটুপানি মাড়িয়ে ভোটাররা কেন্দ্রের মধ্যে ঢুকছেন। কেন্দ্রে আসা ভোটারদের অধিকাংশই বয়োবৃদ্ধ। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

পানি মাড়িয়ে ভোট দিয়ে এসেছেন ৮০ বছর বয়সী আবদুল মালেক। তিনি বলেন, ভোর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। সবকিছুই ডুবে গেছে। এতে মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এম এম রুহুল আমিন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে পারছেন না। এ কারণে ভোটারের উপস্থিতি আশানুরূপ হয়নি। তবে আবহাওয়া ভালো হলে ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে পারে বলে আশা করেন তিনি।

প্রথম দুই ঘণ্টায় নেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই ঘণ্টায় খুলনার কোনো ইউনিয়ন বা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়ন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে দিঘলিয়া উপজেলার সবগুলো (ছয়টি) ও পাইকগাছা উপজেলার চারটি (নয়টির মধ্যে) ইউনিয়ন রয়েছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে প্রতি উপজেলায় চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলাগুলোতে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ দুটি র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ দল, বিজিবির দুই প্লাটুন ভ্রাম্যমাণ দল ও একটি দলে এক প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং উপকূলীয় উপজেলায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের তিনটি দল কাজ করছে। আর প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্বে আছেন। নির্বাচনকে আরও ‘গ্রহণযোগ্য’ করতে প্রতিটি উপজেলার দায়িত্বে একজন করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

এদিকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান ও একজন সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য রয়েছেন। ওই দুজন হলেন দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ যুবরাজ ও কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী সোহরাব শেখ।

খুলনার জেলা প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মূল সমন্বয়ক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ম্যাজিস্ট্রেট, র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোট গ্রহণের সময় কোথাও বিশেষ কিছু ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন