বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করেছেন সাকিব

অভাবের সংসারে সাকিবের বড় ভাই স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। তবে ছোটবেলা থেকেই সাকিবের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল। ছেলের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে বাবা সাইফুল ইসলাম কখনো ছেলের পড়াশোনার ব্যাপারে কার্পন্য করেননি। দিনমজুরের কাজ করেও ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন। সেই ছেলে চিকিৎসক হতে যাচ্ছে দেখে আনন্দে চোখ ভিজে ওঠে তাঁর।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তেমন লেখাপড়া জানি না। অসুস্থ শরীর নিয়্যা কখনো দিনমজুরের কাজ আবার কখনো অন্যের জমিতে কামলা খাইট্যা ছেলেকে পড়াশোনা করাইছি। বাড়ি থাকলি ছেলেও আমার সাথে অন্যের জমিতে কামলার কাম করিছে। ছেলে আমার ডাক্তার হবি দেইখ্যা এখন সগলেই আমাকে সম্মান করে।’

সাকিব জানান, কলেজে ভর্তির পর করোনার কারণে বেশির ভাগ সময় বাড়িতেই ছিলেন তিনি। পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়ে বাবার সঙ্গে অন্যের জমিতে কাজ করেছেন তিনি। কয়েক দিন আগে তাঁর বাবা বেশ অসুস্থ ছিলেন। জমিতে কাজ করে যা পেয়েছেন, তা দিয়েই তখন সংসার চালিয়েছেন আবার বাবার চিকিৎসাও করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মেডিকেলে চান্স পেয়ে খুবই ভাল লাগছে। কিন্তু ভর্তির শুরুতেই ভর্তি ফি, বইপত্র, মেডিকেলের বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনা বাবদ অনেক টাকা লাগবে শুনেছি। কিন্তু ঘরে তো কোনো টাকাই নেই। তাই ভর্তি নিয়ে বাড়ির সবাই দুশ্চিন্তায় আছেন।’

default-image

টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ চালিয়েছেন তানজিলা

তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তানজিলা দ্বিতীয়। বড় বোন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে বিএসএস (সম্মান) পড়ছেন। ছোট বোন একাদশ ও আর ভাই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। তানজিলার বাবা মতিয়ার মোল্লা একজন কৃষক। কখনো অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন, আবার কখনো অন্যের জমিতে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেন।

মতিয়ার মোল্লা বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতি আমাকে খুব কষ্ট করতি হইছে। কিন্তু এখন সগলেই বলতেছে আমার মেয়ে নাকি এই এলাকার মুখ উজ্জ্বল করিছে। শুইন্যা গর্বে বুক ভইর‌্যা ওঠে। তবে মেডিক্যালে না কি ভর্তি ও পড়ার খরচ ম্যালা। এত খরচ কোনথ্যা জোটাবো? ’
টিউশনি করিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালান তানজিলা। মাঝেমধ্যে সংসার চালানোর জন্য বাবাকেও কিছু টাকা দেন। তানজিলা বলেন, করোনার কারণে কলেজ বন্ধের সময় তিনি বাড়িতে এসেও টিউশনি করেছেন। তখন তিনি বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় সবাই শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে ভর্তি ফি থেকে শুরু করে পড়াশোনার খরচ চালানো তাঁর পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।

default-image

বাবার কষ্ট দূর করতে চান প্রান্তর

ছোটবেলা থেকেই বাবা আল্লেক আলীকে মাঠে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে দেখেছেন প্রান্তর আলী। অন্যের জমিতে কাজ করে যে অল্প টাকা উপার্জন করেছেন, তা দিয়ে আল্লেক আলী সংসারের খরচ চালিয়ে দুই ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন। বাবার পরিশ্রম প্রান্তর আলী সব সময়ই ভাবতেন, পড়াশোনা শিখে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবার পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে প্রান্তর তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। কিন্তু অর্থের টানাপোড়ন স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রান্তর আলী বলেন, ‘আগামী ৮ মে থেকে আমাদের ভর্তি শুরু। আমার ভর্তির টাকা ও মেডিকেলের অন্যান্য খরচ জোগাড়ের জন্য বাবাকে এত আনন্দের মধ্যেও দুশ্চিন্তা করতে দেখি। জানিনা কীভাবে এই টাকা জোগাড় হবে। তবে আমার স্বপ্ন একটাই, তা হলো ডাক্তার হয়ে বাবার কষ্ট আর দুশ্চিন্তা দূর করা।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন