বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষা (ফেজ-১) প্রকল্পের আওতায় পদ্মার তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় গোদারবাজার থেকে বোতলা স্লুইসগেট পর্যন্ত ২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণের জন্য ব্যয় হয় ৪৭ কোটি টাকা ৭১ লাখ টাকা। কাজ সম্পন্ন করার পাঁচ বছরের মধ্যে ভাঙনে ব্লক ধসে যায়। পাঁচটি প্যাকেজে দেড় কিলোমিটার পদ্মাতীর মেরামতের ব্যয় ধরা হয় ৭২ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

গত শনিবার গিয়ে দেখা যায়, গোদার বাজারের পূর্ব দিকে একটি ইটভাটা। পূর্ব দিকে শেষ প্রান্তে নদীটি কিছুটা বাঁক নিয়েছে। বাঁকের আগে ব্লক ধসে গেছে।

ব্লক ধসে পড়ার সঙ্গে বর্ষার পানির সম্পর্ক নেই। বর্ষা মৌসুমে বস্তা ফেলাসহ আরও কিছু কাজ করা হবে। এ কারণে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
আবদুল আহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজবাড়ী পাউবো

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, দুই বছর আগে কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারা বছর ঢিমেতালে কাজ করে। আর বর্ষা এলে কাজের তোড়জোড় শুরু হয়। এবার তেমন বৃষ্টি হয়নি। ঈদের আগে এক দিনের সামান্য বৃষ্টিতেই ব্লক ধসে গেছে। তাহলে বর্ষা মৌসুমে কী অবস্থা হবে, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।

১ নম্বর প্যাকেজে দৈর্ঘ্য ৬০০ মিটার। এই প্যাকেজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লার বিজে। এই অংশের প্রায় ২০ মিটার ধসে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ইতিমধ্যে ৭৫ শতাংশ সম্পন্ন করেছে।

কাজের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ মিটার অংশে ব্লক ধসে গিয়েছে। ওই অংশ দিয়ে ইটভাটার পানি একটি পাইপের সাহায্যে নদীতে যেত। বৃষ্টি হওয়ার কারণে ইটভাটায় পানি জমে ছিল। পরে তা পাইপের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার ফলে এই অবস্থার তৈরি হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক রকিব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘কাজের নকশা করা হয়েছে ২০১৪ সালে। কার্যাদেশ দিয়েছে ২০১৯ সালে। এতে অনেক স্থানে ভৌগোলিকভাবে পরিবর্তিত হয়। তবে ধসে যাওয়ার বিষয়ে আমি কোনো কিছু জানি না। আমরা মেরামত করে দেব। কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছি।’

রাজবাড়ী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন, প্রকল্পের কাজ সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। কাজ করার সময় স্থানীয়দের কিছু ডিস্টার্ব থাকে। এটি একটি মাইনর ব্যাপার। কাজ করার সময় নিচের পাইপ দেখা যায়নি। ব্লক ধসে পড়ার সঙ্গে বর্ষার পানির সম্পর্ক নেই। বর্ষা মৌসুমে বস্তা ফেলাসহ আরও কিছু কাজ করা হবে। এ কারণে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন