বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সাংসদের সমর্থক “বিদ্রোহী” চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম মিঠু চৌধুরীর সমর্থকেরা একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। আজ আমার ভাইকেও হত্যা করা হলো।
জামাল ঢালী, নিহত ছত্তার ঢালীর ছোট ভাই

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থগিত হওয়া উত্তর উলানিয়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম মোল্লা ওরফে জামাল এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওরফে মিঠু চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে আজ সকাল থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত এক সপ্তাহ ধরে উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজার আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। ওই সংঘর্ষের জেরেই আজ ইউনিয়নের শোলদি গ্রামে একটি বিয়েবাড়িতে সংঘর্ষ বাধে।

আজ বিকেলে শোলদি গ্রামে বর্তমান ইউপি সদস্য রমিজ আলীর মেয়ের ঘরের এক নাতির বিয়ের আয়োজন চলছিল। রমিজ আলী উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং স্থগিত হওয়া নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন। রমিজ আলী ওই ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম মোল্লার সমর্থক। এ জন্য বিয়ের যাবতীয় আয়োজন ও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম মোল্লার সমর্থকেরাই।

রমিজ আলীর পরিবারের সদস্যরা বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় কালাম ব্যাপারী ও সুমন ব্যাপারীর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিয়েবাড়িতে হামলা করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে চলাকালে সিদ্দিকুর রহমানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় গুরুতর আহত হন আরও চারজন। তাঁদের প্রথমে পার্শ্ববর্তী পাতারহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে ছত্তার ঢালী মারা যান।

সম্প্রতি পুরোনো উলানিয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করে উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়া নামে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গঠন করা হয়। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নবগঠিত এই দুই ইউপিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সীমানা-জটিলতা মামলায় গত ৬ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজসেবা সম্পাদক ও নিহত ছত্তার ঢালীর ছোট ভাই জামাল ঢালী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিহত দুজনই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম মোল্লার সমর্থক। স্থানীয় সাংসদের সমর্থক “বিদ্রোহী” চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলাম মিঠু চৌধুরীর সমর্থকেরা একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। আজ আমার ভাইকেও হত্যা করা হলো।’

মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা ঘটনার পর এখানে আছি। একটি লাশ উদ্ধার করেছি। বরিশালে নেওয়ার পথে আরেকজন মারা গেছেন। তবে কতজন আহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

সম্প্রতি পুরোনো উলানিয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করে উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়া নামে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এরপর নবগঠিত এই দুই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নবগঠিত এই দুই ইউপিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই দুই ইউনিয়নের সীমানা-জটিলতার কথা বলে স্থানীয় এক ব্যক্তি আদালতে মামলা করেন। ফলে গত ৬ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

এরপর থেকেই এই দুই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-খুনোখুনি অব্যাহত রয়েছে। ৭ ডিসেম্বরের পর ওই দুই ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ২০ দফা সংঘর্ষে ৪ জন নিহত এবং অন্তত ১০০-এর বেশি লোক আহত হন।

গত ১০ এপ্রিল দিবাগত ভোররাতে দক্ষিণ উলানিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছিলেন। দক্ষিণ উলানিয়ায় ইউপির স্থগিত থাকা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীকের মিলন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ রুমা বেগম সরদারের (আনারস) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন