এলাকাবাসী জানান, পৌরসভার এক কর্মচারীকে মেয়র মুক্তার লোহার রড দিয়ে মেরে তাঁর চারটি দাঁত ভেঙে দিয়েছেন। এই কর্মচারীর অপরাধ ছিল, তিনি ব্যাগ ধরে ছিলেন। এই ব্যাগে মেয়ের মাছ ঢালছিলেন। হঠাৎ ব্যাগের হাতল ছিঁড়ে যায়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়র তাঁকে মারধর করেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই মারের ব্যাপারে তিনি থানায় কোনো মামলা করেননি। তিনি গণমাধ্যমে কোনো কথা বলতে চাননি।

পৌরসভার গোচর মহল্লার বাসিন্দা এনামুল হক ওরফে চেরু বলেন, তাঁর ভাতিজা লেলিন কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। লেলিন ঈশ্বরদী থেকে ভটভটিতে করে মাল নিয়ে ফিরছিলেন। মুক্তার ওই রাস্তা দিয়ে আসছিলেন। চোখে মোটরসাইকেলের হেডলাইটের আলো পড়ায় সাইড দিতে দেরি হয়েছিল। এতেই রেগে গিয়ে মুক্তার এত মেরেছিলেন যে তাঁর ভাতিজা রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে ছিলেন। ভটভটির চালককেও মেরেছিলেন।

এনামুল হক বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ করেছিলেন। মেয়রের হুমকির কারণে তাঁরা আর থানায় যাননি। পরে আর তা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। ঘটনার দুই–আড়াই মাস পরে তাঁর ভাতিজা মারা যান।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মর্জিনা বেগমের অভিযোগ, অপমান ও লাঞ্ছিত করে মেয়র মুক্তার তাঁকে পৌর কার্যালয় থেকে বের করে দিয়েছিলেন। বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের এক যুবককে মারধরের অভিযোগে এই মেয়রের বিরুদ্ধে উপজেলার তেঁথুলিয়া বাজারের পাশে মানববন্ধন হয়েছিল। এরপরে সালিসে মেয়র মুক্তার ক্ষতিপূরণ দিয়েছিলেন।

আড়ানী পৌরসভার প্রথম মেয়র ছিলেন প্রয়াত মিজানুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও এই মেয়র লাঞ্ছিত করেছেন। সাবেক মেয়রের ভাতিজা মুস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তাঁরা কোনো কথা বলতে চান না।

এলাকাবাসী জানান, এলাকার রিকশাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা থেকে শুরু করে পৌরসভার কাউন্সিলর পর্যন্ত তাঁর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তাঁরা কেউ কোথাও অভিযোগ করেননি।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, মেয়র মুক্তার গত দুই মেয়াদে শতাধিক মানুষকে লাঞ্ছিত করেছেন, মারধর করেছেন, কিন্তু তাঁর ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। এই প্রথম কলেজশিক্ষক মনোয়ার হোসেন তাৎক্ষণিক থানায় মামলা করেছেন এবং পুলিশ মেয়রকে ধরার জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছেন।