বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বজনেরা ঘটনাস্থল, বরগুনা সদর হাসপাতাল, বরিশাল, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুজি করেও আইরিন আক্তার ও তাঁর মেয়ে রোশনী আক্তার লিমার সন্ধান পাননি।

বরিশালে চিকিৎসাধীন রনি সিকদার বলে, কেবিন না পাওয়ায় লঞ্চের দোতলার ডেকে ছিল তারা। রাত তিনটার দিকে যাত্রীদের হুড়োহুড়ির শব্দে ঘুম ভাঙে। জেগে চারদিকে আগুন দেখতে পায়। জীবন বাচাঁতে মা-বোনকে নিয়ে রনি লঞ্চের ছাদে ওঠে। একপর্যায়ে আগুনের তীব্রতা বাড়লে নদীতে ঝাপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রনি। কিন্ত ছোট বোন রোশনী সাঁতার না জানায় সেই সিদ্ধান্তে রাজি হননি তার মা। ফলে মা–মেয়ে লঞ্চে থেকে যায়। রনি নদীতে লাফ দেয়। সে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আইরিন স্বামী শাহীন সিকদারের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। আইরিনের বাবার বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ করুনা গ্রামে। বাবা আবদুল মান্নান মিয়া বার্ধক্যের কারণে অসুস্থ। তাঁকে দেখার জন্য ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বরগুনা যাচ্ছিলনে আইরিন। শাহীন সিকদার বৃহস্পতিবার তাঁদের ঢাকায় লঞ্চে তুলে দিয়েছিলেন। পরদিন দুর্ঘটনার খবরের পর থেকে তিনি পাগলপ্রায়।

শাহীন সিকদারের ছোট ভাই বাবু সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেছি। কিন্ত আমার ভাবি আইরিন আক্তার রিনা ও ভাতিজি রোশনীকে খুঁজে পাচ্ছি না।’

এদিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর কিসমত শ্রীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহানারা বেগম (৪২) অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর স্বামী মাধবখালী ইউনিয়নের কাফুলা গ্রামের সেলিম আকন ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

স্বজনেরা জানান, জাহানারা আক্তার ও সেলিম আকন কয়েক দিন আগে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন অভিযান-১০ লঞ্চে। ওই দিন রাতে দুর্ঘটনার আগে সেলিম আকন বাথরুমে যান। সেখান থেকে ফিরে চারদিকে শুধু আগুন দেখতে পান। আগুনের কুণ্ডলী ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন লঞ্চে স্ত্রী জাহানারা বেগমকে আর খুঁজে পাননি। তাঁর শরীরের অনেকাংশ দগ্ধ হওয়ার পর নদীতে ঝাঁপ দেন। তাঁকে চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন