পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের দুই বন্দর মোংলা ও পায়রায় আমদানি–রপ্তানি বাড়বে। সেতুর সুফল নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই বন্দর।

এগিয়ে মোংলা, চলছে প্রস্তুতি

পদ্মা সেতু চালুর পর আমদানি–রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বন্দরে বছরে ১ হাজার ৫০০ জাহাজ ও প্রায় এক লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে এই সক্ষমতার ৫০ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেতু চালুর পর আমদানি–রপ্তানি বাড়লে বাকি ৫০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫ সাল নাগাদ বন্দরে আট লাখ কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে একটি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। খননকাজও চলছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে বন্দরের দূরত্ব হবে ১৭০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ঢাকার দূরত্ব ২৬৪ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে ২৭০ কিলোমিটার। আমদানি-রপ্তানিকারকেরা তাই নিজেদের স্বার্থে মোংলা বন্দর ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হবেন।

এখন চট্টগ্রামের চেয়ে মোংলা দিয়ে বেশি গাড়ি আমদানি হয়। সেতু চালুর পর গাড়ি আমদানি আরও বাড়বে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) বন্দরবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আহসানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকার সঙ্গে মোংলার দূরত্ব অনেক কমে যাবে। তখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতাকে গাড়ি সরবরাহ করা যাবে। এতে গাড়ি ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত হবেন।

আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বন্দর দিয়ে হিমায়িত চিংড়ি ও পাটপণ্য রপ্তানি হয় বেশি।

পায়রায় নির্মাণযজ্ঞ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পায়রা বন্দরের প্রথম কনটেইনার টার্মিনালের কাজ শেষ হতে পারে আগামী বছরের জুনে। টার্মিনালটি চালু হলে বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারবে কনটেইনারবাহী জাহাজ। এতে কনটেইনারে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালসহ সরঞ্জাম আমদানি–রপ্তানি করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর দেশের তৃতীয় এই সমুদ্রবন্দরের উদ্বোধন করেন। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে সীমিত পরিসরে বন্দরের কার্যক্রম চলছে। এখন মূলত পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটি ব্যবহার করে কয়লা আমদানি হচ্ছে।

কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হলে পায়রায় পুরোদমে পরিচালন কার্যক্রম শুরু হবে। নির্মাণাধীন টার্মিনালে একসঙ্গে তিনটি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। বছরে আট লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো সম্ভব হবে। টার্মিনালের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক তৈরির কাজও চলছে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল আগামী বছরের মার্চের মধ্যে পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পায়রার কার্যক্রমে গতি আসবে।

পদ্মা সেতু চালুর সুফল নিতে আগামী সেপ্টেম্বরে বন্দরের সার্ভিস জেটিতে (বন্দরের নিজস্ব ছোট জাহাজ রাখার জেটি) গাড়ির জাহাজ ভেড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সে জন্য খননকাজ এগিয়ে চলছে।

পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর—এই দুই সুবিধা কাজে লাগিয়ে বন্দর অঞ্চলে নতুন শিল্প-কলকারখানা নির্মাণে আগ্রহী হবেন ব্যবসায়ীরা। এতে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, পদ্মা হয়ে গেল। পায়রায় টার্মিনাল চালু হচ্ছে। এখন ভোলা থেকে বরিশালে গ্যাস লাইন আনা গেলে এ অঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়ন হবে। পায়রা ও পদ্মার মেলবন্ধনে বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি বাড়বে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন