বাজারে আমন মৌসুমের ধান স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা ধানের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এসব ধানের দাম পড়ে গেছে। ফলে মোটা চালের দাম কমেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মোটা চালের দাম আরও কমতে পারে। অন্যদিকে বোরো মৌসুমের জিরা, কাটারি, বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সরু ও মাঝারি চালের দাম বেড়েছে। সরু ও মাঝারি জাতের চালের দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন মিলমালিক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় মেসার্স ফারিহা রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, পাঁচ-ছয় দিন ধরে নতুন ধানের (স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা) দাম কমতে শুরু করেছে। যেসব জেলায় বড় বড় আড়ত আছে, সেখানেও ধানের দাম কমতির দিকে। প্রতি মণ ধানের দাম আগের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে নওগাঁর বাজারে প্রতি মণ স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা ধান ১ হাজার ১০-১ হাজার ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচেও হেরফের হচ্ছে। এ কারণে মোটা চালের দাম কমিয়েছেন মিলের মালিকেরা।

সরু ও মাঝারি চালের দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে শেখ ফরিদ উদ্দিন দাবি করেন, বোরো মৌসুমে জিরা ও কাটারি ধানের সরবরাহ এখন বাজারে নেই বললেই চলে। তবে বাজারে সরু ও মাঝারি চাল হিসেবে পরিচিত জিরা ও কাটারি জাতের চালের চাহিদা রয়েছে প্রচুর। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মিলমালিক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড় পৌর বাজারের খুচরা চাল বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শম্পা কাটারি জাতের যে চাল এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকায়। এ ছাড়া কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। নন-শর্টার জিরা ও কাটারি চাল এবং বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ জাতের চাল দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে মোটা জাতের স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত কমে এখন ৪৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁর পৌর বাজার খুচরা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি উত্তম কুমার সরকার বলেন, মোকাম থেকেই সরু ও মাঝারি চাল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই সরু ও মাঝারি জাতের চাল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।