default-image

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যত্ন প্রকল্পের এক কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

হুমকি পাওয়া ব্যক্তির নাম আবু তাহের আহমেদ। তিনি আমতৈল ইউনিয়নে যত্ন প্রকল্পের সেফটিনেট প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট (এসপিএ) হিসেবে কর্মরত। চুয়ান্ন হাজার গ্রামের বাসিন্দা ও ধারা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইউএনওর পরামর্শে থানায় জিডি করেছি। ঘটনাটি নিয়ে পরিবারসহ আতঙ্কে রয়েছি।’

জানতে চাইলে ইউএনও মো. রেজাউল করিম বলেন, যত্ন প্রকল্পের ওই কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কর্মকর্তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
আমি শুধু ফোন করে বাদ পড়ার বিষয়টি জানতে চেয়েছি। কাউকে গালমন্দ করিনি বা হুমকি দিইনি।
সিরাজুল ইসলাম, চুয়ান্ন হাজার গ্রামের বাসিন্দা

লিখিত অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, যত্ন প্রকল্পের অধীনে অতিদরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী ও পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশুর মায়েদের সুনির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের বিপরীতে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। সরকারি চাকরিজীবী, দুজনের বেশি শিশু ও সচ্ছল পরিবারের সদস্যদের এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। এ প্রকল্পের আওতায় গতকাল বুধবার আমতৈল ইউনিয়নে ৬৯৬ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা বিতরণ করা হয়। এতে সচ্ছল হওয়ায় সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী বাদ পড়েন। এতে সিরাজুল খেপে যান। তিনি মুঠোফোনে কল করে গালিগালাজ করে আবু তাহেরের ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করার হুমকি দেন। পরে সিরাজুলের পক্ষে আরও কয়েকজন কল করে আবু তাহেরকে একই ধরনের হুমকি দেন। তাঁরা আবু তাহেরের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। এ ঘটনায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আবু তাহের প্রথমে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে থানায় জিডি করেন।

জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুধু ফোন করে বাদ পড়ার বিষয়টি জানতে চেয়েছি। কাউকে গালমন্দ করিনি বা হুমকি দিইনি।’

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0